গ্রেনেড হামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৯ আসামি পলাতক

ডেস্ক রিপোর্ট ।।  স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক রক্তপাতের দিন ২১ আগস্ট আজ। ২০০৪ সালের এ দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর সামনে আওয়ামী লীগের সমাবেশে শক্তিশালী গ্রেনেড হামলা চালায় দুষ্কৃতকারীরা। গ্রেনেডের স্পিøন্টার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান ২৪ নেতাকর্মী।

এ হামলার মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৯ আসামি পলাতক রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘মামলার তদন্ত শেষ হয়ে এখন আদালতে বিচার চলছে। এ কারণে এটা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। তবে আসামিরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি কে কোথায় আছে তার খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে মন্ত্রণালয়ে। ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে।’

রাইজিংবিডির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আসামিরা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছে। এ কারণে নির্দিষ্ট করে বলা যায় না তারা কোন দেশে আছে। আসামিদের মধ্যে তাজউদ্দিন সাউথ আফ্রিকায় আছে। আসামিদের দেশে আনার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

সিআইডি পুলিশে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার্জশিটভুক্ত ১৯ আসামি পলাতক রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও বাবু ওরফে রাতুল বাবু, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ অন্যতম। এর মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৪ আসামির তথ্য দিয়ে ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারি করা হয়।

সিআইডির সর্বশেষ চার্জশিটে ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জন রয়েছেন কারাগারে। পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক, খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রাক্তন এসপি রুহুল আমিন, আতিকুর রহমান, আবদুর রশিদসহ ৮ জন জামিনে আছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ফাঁসি হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এক কর্মকর্তা জানান, ২০০৮ সালের ১১ জুন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির সিনিয়র এএসপি ফজলুল কবির জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে অতিরিক্ত ডিআইজি) আব্দুল কাহার আকন্দ। ২০১১ সালের ৩ জুলাই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের নাম যুক্ত করে মোট ৫২ জনের নামে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে চার্জশিট দেন তিনি। ইতোমধ্যেই মামলার অর্ধেকের বেশির সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের  সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ২৪ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ