নায়করাজকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন

বিনোদন রিপোর্ট :

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) বেলা দেড়টার দিকে নায়করাজের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানেই হিমাগারে বিকাল অবধি রাখা হবে এ কিংবদন্তির মরদেহ।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সেখান থেকে আসরের নামাজের সময় নিয়ে যাওয়া হবে গুলশান আজাদ মসজিদে। শেষ জানাজা পড়ানো হবে সেখানেই। এরপর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে এই কিংবদন্তির মরদেহ।

এর আগে সকাল ১১টার দিকে বিএফডিসিতে নিয়ে যাওয়া হয় নায়করাজকে। চলচ্চিত্র পরিবারের সর্বস্তরের সদস্যের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তাকে শেষবারের মতো দেখতে ঢল নামে মানুষের। ভক্তদের প্রাণের এ মানুষটি সিক্ত হন ভালোবাসায়।

উল্লেখ্য, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান নায়ক রাজ্জাক। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ষাটের দশকের মাঝের দিক থেকে এফডিসিই ছিল রাজ্জাকের দীর্ঘদিনের কর্মস্থল। এখানকার কোথায়ইবা তার পা পড়েনি! সত্তরের দশকে এখানকার ফ্লোরগুলো চাঙা থাকতো তার সুবাদেই। নায়করাজের সিনেমার শুটিং হলো জমজমাট হতো ফ্লোরগুলো। দিনে দিনে ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘পিচঢালা পথ’ পেরিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন দেশীয় চলচ্চিত্রের ‘রংবাজ’।

সারাজীবন চলচ্চিত্র নিয়েই থেকেছেন রাজ্জাক। অভিনয়ই নয়, এফডিসি তাকে পেয়েছে পরিচালক-প্রযোজক হিসেবেও। ‘অনন্ত প্রেম’, ‘বদনাম’, ‘অভিযান’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘প্রফেসর’, ‘যোগাযোগ’, ‘সৎ ভাই’ পরিচালনা করে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। তার প্রযোজনা সংস্থা রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন থেকে তিনি উল্লেখযোগ্য কিছু ছবি নির্মাণ করেছিলেন।

রূপালি পর্দায় রাজ্জাককে ‘বাবা কেন চাকর’-এর মতো অনেক ছবিতে কাঁদতে দেখা গেছে। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁর সেই কান্না কাঁদিয়েছে দর্শকদের। কান্না কিংবা কমেডি, প্রেম কিংবা বলিষ্ঠ পুরুষের চরিত্রে এমন মানুষের অভিনয় আর দেখা যাবে না বলে এখন সতীর্থরা কাঁদছেন।

শুধু সতীর্থরাই নন, সারাদেশেই হয়তো ছড়িয়ে পড়েছে এই শোক। রাজ্জাক ভক্তদের চোখের কোণেও হয়তো জল জমেছে। ২১ আগস্ট ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ হলো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তির অধ্যায়ের সমাপ্তি।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২২-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ