পার্বতীপুরে তহিদুল বাঁচতে চায়!

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :

আমি বাঁচতে চাই মা, আমাকে বঁচাও। এমনি ভাবে বার বার তার মায়ের কাছে আকুতি মিনতি জানাচ্ছিল সম্প্রতি অন্ধ হয়ে যাওয়া মেধাবী
কিশোর তহিদুল ইসলাম (১৫)। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলা শহর থেকে উত্তরে প্রায় ৫ কিলোমিটার গেলেই উত্তর হরিরামপুর ছোট ভাটিপাড়া গ্রাম। এ গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর খতিবর রহমানের ৪ সন্তানের মধ্যে ছোট তহিদুল।

স্থানীয় সুন্দরপীর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণীতে পড়াকালে তহিদুলের মাথা ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করেও আরোগ্য হয়নি।

পরে রংপুরে চিকিৎসা করতে গিয়ে ডাক্তার জানান, তার ব্রেইন টিউমার হয়েছে, অপারেশন করাতে হবে। অবশেষে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ তহিদুলের টিউমার অপারেশন করেন নিউরোসার্জারী বিভাগীয় প্রধান ডাঃ রেজাউল আলম। অপারেশনের পর মাথা ব্যথা কমলেও তহিদুল দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলে। সে তার দু’চোখে কিছুই দেখতে পায় না। মঙ্গলবার তহিদুল কে সাথে নিয়ে সাংবাদিকদের নিকট এসে তার মা জানায়, ছেলের অপারেশন ও চিকিৎসা করতে এ যাবত ৫-৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বিভিন্ন এনজিও সমিতির কাছে ঋণ করে ও বাড়ীর গরু-ছাগল বিক্রি করে এবং আত্মীয় স্বজনদের কাছে ধার দেনা করে এসব টাকা
যোগাড় করেছি। কিন্তু তবুও ছেলে সুস্থ্য হচ্ছে না।

ডাক্তার জানিয়েছেন, আবার তার অপারেশন করতে হবে, তবে ভাল হবে কিনা বলা যাবে না। কোন জমি নাই যে তা বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসা করবো। অপারেশনের পর অন্ধ হয়ে যাওয়া মেধাবী কিশোর তহিদুল ইসলাম জানায়, অপারেশনের স্থানে খামচে ধরে। আমি দু’চোখে কিছুই দেখতে পাইনা। আর ডান চোখ খুব জ্বালাতন করে। মনে হচ্ছে কেউ যেন মরিচের পানি চোখে ঢেলে দিয়েছে। এ সময় সে তার মা কে বার বার বলতে থাকে, মা আমি বাঁচতে চাই, আমাকে বাঁচাও। তার অসহায় মা শুধু কেঁদেছে। তিনি ছেলের চিকিৎসার জন্য সকলের নিকট সাহায্যের আকুল আবেদন জানান। তাকে সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা- পিতা খতিবর রহমান, ডাচ বাংলা ব্যাংক হিসাব নং-
১৬১.১৫১.৩৪৯২০ এবং মোবাইল নং ০১৭২৩৯২৫০২৮।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ