সিরাজগঞ্জে মাকে পিটিয়ে আহত করেছে সন্তানরা

নাসিম অাহমেদ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :

বাড়ির জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বৃদ্ধা মা কে রড,দা ও বাটাম দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে সন্তানরা। রবিবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হরিনা বাগবাটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

হরিনা বাগবাটি গ্রামের মৃত মজিবর সেখ এর স্ত্রী সালেহা। গ্রামের সবাই স্বামীকে মজিবর ঘোষ বলেই চিনে। চার ছেলে ও চার মেয়ে রেখে মৃত্যু বরন করেন মজিবর। মজিবর দুধ আর ঘী এর ব্যবসা করত সে জন্য সবাই তাকে ঘোষ বলে ডাকত। মজিবর মৃত্যুর আগে ১০ শতক জমি লিখে দিয়ে যান সালেহার নামে। এই জমিটি তার জন্য কাল হয়ে দাড়িছে। সন্তানরা বৃদ্ধ মাকে খেতে না দিলেই চায় জমি। আর এই জমির জন্য বৃদ্ধা মাকে পিটিতেউ দিধাবোধ করে নাই পাষ›ড সন্তানরা। আহতের ছোট ছেলে দয়াল হোসেন জানান তার বড় ভাই আলাউদ্দিন ও সেলিমের সাথে বাড়ির ১০ শতক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। মায়ের সম্পতি তারা জোর করে নিয়ে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়।

রবিবার সন্ধ্যায় মা সালেহা বেগম বাড়ীতে ঘড় তোলার জন্য খুটি আনলে বড় ভাই আর তার ছেলেরা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা রড,বাটাম এবং দা নিয়ে মায়ের উপর হামলা করে এবং তাকে বেদক পিটায়। সন্তানের দায়ের আঘাতে ফেটে যায় ৬৫ বছরের বৃদ্ধা সালেহার মাথা। বাধা দিতে গিয়ে আমি আর আমার স্ত্রী লাঞ্চিত হই তাদের হাতে। মার মাথা ফেটে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে বড় ভাইরা বাঁধা দেয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বড় ভাইরা মাকে হত্যা করতে চায়। এর আগেউ তারা মাকে একাধিক বার বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। তারা মাকে খেতে দেয়না । মা বোনের বাড়িতে গিয়ে থাকে মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে খায়। দয়ালের স্ত্রী জানায় শ্বাষুরী কে মারার পরে আমার স্বামী ঠেকাতে গেলে তাকে ,আমাকে আর ৮ বছরের ছেলে বিশাল কে তারা আঘাত করে। মায়ের চিকিৎসা যেন করতে না পারি সে জন্য আমদের ঘড়ের মধ্যে আটকে রাখে। পরে আমরা চিৎকার করলে আশে পাশের লোকজন এসে আমাদের উদ্ধার করে। পরে আমরা হাসপাতালে আসি স্বামী আর শ্বাষুরী কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ হাসপাতালে ভাল ভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না।

সোমবার বিকেলে হাসপাতালে গেলে দেখা যায় সন্তানের আঘাতে আহত বৃদ্ধা হাসপাতালের নতুন ভবনের চার তলায় একটি বেডে শুভে আছে। হাতে লাগানো হয়ছে স্যালাইনের জন্য ক্যানেলা। তবে পেসক্রিপশনে কোন স্যালাইন লেখা নেই। পড়ে সেবিকা বিব্রবত বোধ করে এবং দ্রুত ক্যানেলা খুলে দেয়। রোগীর শাররীক অবস্থা জানতে চাইলে ব্রিবতবোধ করে সেবিকা পড়ে ডেকে আনেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের রেজিষ্টার চিকিৎসক নাসিমা কে। তিনি এসে রোগীর অবস্থা দেখে চলেন যান। পরে তার কাছে রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি মিডিয়া পছন্দ করি না। আর এখানে কোন দুর্যোগ বা অঘটন হয়নি যে আমাকে মিডিয়ার সামনে কথা বলতে হবে আমি এটা পছন্দ করি না। পরে তাকে বলা হয় যে যেহেতু সন্তান মাকে মেরেছে সে জন্য এটা সংবাদ ।

উত্তরে ডাঃ নাসিমা বলেন, আমার কাছে সবাই রোগী আগে পিছের গল্প জানার দরকার নাই। তার মাথা ফেটে গেছে কিন্তু সে সুস্থ আছে তেমন কোন আশংকা নেই। চিকিৎসার জন্য এই ঘটনায় এখন মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন আহত সালেহার ছোট ছেলে। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ