ভৈরব পৌর কবরস্থানের বেহালদশা জলাবদ্ধতার কারণে লাশ দাফন ব্যহত

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
আগস্ট ২৩, ২০১৭ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের শতবর্ষী পৌর কবরস্থানটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। সামন্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, চারিদিকে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকা ও বিদ্যুৎ বিহীন এই কবরস্থানটির বেহাল দশার কারণে ভোগান্তি বেড়েছে পৌর বাসিন্দাদের । জলাবদ্ধতার কারণে পৌর কবরস্থানটিতে লাশ দাফন করতে গিয়ে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় রাত্রিকালিন সময়ে কবর কুঁড়া ও লাশ দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, জলাবদ্ধতার কারণে শতবর্ষী পৌর কবরস্থানটির সবত্রই পানি লেগে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়াও কবরস্থান জুড়ে বিশাল আকৃতির অর্ধশতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা শিকর থাকায় কবর কুঁড়তে গিয়ে খোদকদের একাধিক কবর কুঁড়তে হয়। অপরদিকে কবরস্থানে আগাছার কারণে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। চারিদিকে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অবাধে বিচরণ করছে। একশ্রেণির লোকজন পবিত্র কবরস্থানটিকে গো-চরণভুমি হিসেবে ব্যবহার করার ফলে কবরবাসীরাও সুরক্ষিত নয়। গত ১লা মে ঝড়ে কবরস্থঅনের বিদ্যুতের খুটিগুলি ভেঙেঙ্গ পড়ার পর তা আর মেরামত না করায় সন্ধার পর কবরস্থানটি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী মো: ছগির আহমেদ জানান, এ এলাকায় একটি খাল ছিল, ওই খাল দিয়ে অত্র এলাকার সমস্ত পানি নদীতে চলে যেত। বর্তমানে খালটি ভরাট করে ফেলায় পানি সরতে না পেরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে কবরস্থানে বাধ্য হয়ে কাঁদাপানিতে লাশ দাফন করতে হচ্ছে।

গোর খোদক আনোয়ার বলেন, লাশ দাফন করতে আমরা ৫-৬টি কবর খোদেও পানি ও শিকরের কারণে লাশ দাফন করা যায়না। এছাড়াও কয়েক মাস যাবৎ কবরস্থানে বিদ্যুৎ না থাকায় রাত্রিবেলায় গোর খোদতে সমস্যা হয়।

পৌর কবরস্থানের খাদেম মুজিবুর রহমান জানান, ভৈরব পৌর কবরস্থানটি দীর্ঘদিন যাবত গো চারনভুমি ও অপরাধীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে। কবরস্থানটির দক্ষিণ ও পূর্বপার্শ্বে বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় চোর, ছিনতাইকারি ও মাদক সেবীদের উপদ্রবে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়াও এই কবরস্থানে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকার কিছুু নারী পুরুষ তাদের গরু, ছাগল ছেড়ে দিয়ে যায়। গরু ছাগল কবরস্থানে মলমুত্র ত্যাগ করায় কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে পথচারিরাদের অনেকেই কবরস্থানের মূল গেইট দিয়ে ঢুকে কবরস্থানের ভিতর আড্ডা গুজবে লিপ্ত থাকে। কবরস্থানের ভিতরে বৈদ্যুতিক আলোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রাতের বেলা কবর খুড়ে লাশ দাফন করতে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি অপরাধীদের জন্য অভয়ারন্যে পরিনত হয়। কবরস্থানে পানি উঠায় মানুষ লাশ দাফন করতে হিমসিম খাচ্ছে।

এছাড়াও কবরস্থানের মসজিদটি জড়াজীর্ণ অবস্থার জন্য মসজিদে মানুষ নামাজ পড়তে পারতেছেনা। মসজিদের সিড়ি ভেঙ্গে পাশ্বের পুকুরে ডুবে গেছে। মসজিদের বারেন্দাও ভেঙ্গে দেবে গেছে।

পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক রাজু জানায়, এই কবরস্থানে ভৈরবপুর ,জগন্নাথপুর, পঞ্চবটি ঘোড়াকান্দা সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও লাশ এনে এই কবরস্থানে দাফন করা হয়ে থাকে। কবরস্থানে জলাবদ্ধতা দুরীকরণে পৌর মেয়র এডভোটেক ফখরুল আলম আক্কাছ সাহেব ৪৪ লাখ টাকা ব্যায়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরাতে টেন্ডার দেয়া হয়েছিল। ওই টেন্ডার পেয়ে মাহবুবু নামে এক স্থানীয় ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ না করায় আজ এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাইপ লাইনের মাধ্যমে ১৫শ ফুট যে মাটি ভরাট হয়েছে সে মাটি সড়িয়ে পানি বের করার দায়িত্ব দেন তাকে। মেয়রের নির্দেশ মতে এখন কাউন্সিলর নিজেই পানি সরানোর কাজে হাত দিয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পানি সড়াতে পারবে বলে তিনি আশা করছেন। এছাড়াও কবরস্থানের ভিতরের বড় বড় গাছ থাকায় গাছের শিকড়ের জন্য কবর খোদার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণে মেয়র সাহেব গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে বন মন্ত্রনালয়ে চিটি পাঠিয়েছে গাছ গুলি কাটার জন্য । অনুমতি পেলে কবরস্থানের মাঝের গাছগুলি কেটে ফেলা হবে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৩-আগস্ট২০১৭ইং/আরিফুল/ নোমান

Comments are closed.