নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান নাট্য নির্মাতা ‘রাহাত মাহমুদ’ এবং তার বর্তমান হালচাল

শাহরিয়ার রহমান পাভেল, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ।। বাংলাদেশের নাট্য পরিচালনা জগতে এক অনন্য নাম “রাহাত মাহমুদ”। যে বয়সে ছেলে-মেয়েদের সময় কাটে আড্ডা আর ঘুরাঘুরিতে সে বয়সে তার প্রবেশ ঘটে নাট্য জগতে। বাংলাদেশের ইতিহাসে তরুন প্রজন্মের নাটকের পরিচালক হিসেবে বেশ ভালভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে “রাহাত মাহমুদ”। দেশের বাড়ি ফেনী হলেও বাবার চাকরি সূত্রে কিশোরগঞ্জ শহরে তার বেড়ে ওঠা। “মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠে’র” ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি শাহরিয়ার রহমান পাভেলের সাথে তার একান্ত সাক্ষাৎকারে জানা হয় বেশ কিছু তথ্য।

প্রশ্নঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ঢাকায় কিভাবে আসা হয়?
উত্তরঃ স্কুল, কলেজের গন্ডি পেরিয়ে গ্র্যাজুয়েশনের জন্য ঢাকায় আসা হয় এবং বর্তমানে Stamford University তে L.L.M এ অধ্যয়নরত আছি।

প্রশ্নঃ নাট্যজগতে প্রবেশের কারন কি/শুরুর ইতিহাস?
উত্তরঃ মিডিয়ার প্রতি একধরনের ভালোলাগা থেকে ২০১৪ সালে “জাগ্রত পথিক” নামে একটা সংগঠন চালু করি। এ সংগঠনের ব্যানারেই “মেঘ ভাঙা রোদ” ও “I Can Do” সহ বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম বানানো হয়। মূলত শর্ট ফিল্ম করতে করতেই নাট্য পরিচালনায় ভালো লাগা আর ভালোবাসা থেকে এতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত।

প্রশ্নঃ পরিচালক হিসেবে কাজের শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?
উত্তরঃ পরিচালক হিসেবে শুরুটা হয়েছিল নাটক “অপেক্ষার প্রহর” দিয়ে, যার রচনা করেছেন “সিয়াম সরকার” আর প্রযোজনা করেছেন “কায়েস মাহমুদ”।

প্রশ্নঃ এখন অব্দি কয়টা নাটকের কাজ করেছেন?
উত্তরঃ এখন পর্যন্ত ৮টার মত নাটকের কাজ করেছি যার মধ্যে ৬টি নাটক ছিল “অন্তরীপ প্রডোকশন” নিবেদিত, প্রযোজনা করেছেন নাট্যকার ও ফ্যাশন ডিজাইনার “জহির করিম”।

প্রশ্নঃ মিডিয়াতে প্রবেশে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?
উত্তরঃ মিডিয়াতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবসময় বাবা-মার, আর পরিবারের অনুপ্রেরণা ছাড়া সবচেয়ে বেশি যার ছায়াতলে থেকে আজ অব্দি এতদূর আসতে পেরেছি তিনি হলে নাট্যকার ও ফ্যাশন ডিজাইনার “জহির করিম”। প্রথম থেকে এখন অব্দি তার ভালবাসা আর স্নেহ আমার সাথেই আছে ভবিষ্যতেও থাকবে। তার অবদান কখনো ভোলার নয়। এক কথায় বলা চলে আমি আজ পরিচালক শুধু জহির করিম ভাই এর কারনে। জহির করিম এর পাণ্ডুলিপির সাথে আমার পরিচালনার মেলবন্ধন অনেক বেশি সাবলীল ।

প্রশ্নঃ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে কি কি নাটক সম্প্রচার করা হয়েছে এবং সর্বপ্রথম কোন নাটক সম্প্রচারিত হয়েছে?
উত্তরঃ আমার প্রথম নাটক “দুজনে ”NTV তে সম্প্রচারিত হয় । এছাড়াও Maasranga Television এ  “নির্ঘুম অপেক্ষা” ও “তক্ষক” বাংলাদেশের প্রথম একক অভিনয় নাটক সম্প্রচারিত হয়। ATN BANGLA তে “সখী ভালোবাসা কারে কয়” এবং “ভয়” নাটক সম্প্রচারিত হয়। খুব শিঘ্রই Maasranga Television এ আমার পরিচালনায় “অপেক্ষার প্রহর” এবং “আমার বেলা যে যায়” এবং ATN Bangla তে “ইউ টার্ন” সম্প্রচারিত হবে।

প্রশ্নঃ ইদানীং কোন নাটকে কাজ করছেন কি?
উত্তরঃ হুম খুব শিঘ্রই “নেটফিল্ম” নিবেদিত এবং জহির করিমের রচনায় টেলিফিল্ম “জলপরী” ও “জাফরিন সাদিয়ার” রচনায় নাটক “মনজুড়ে” এর শ্যুটিং শুরু করতে যাচ্ছি।

প্রশ্নঃ নতুন অভিনেতাদের কাজে নেয়া বা তাদের সাথে কাজ করার ইচ্ছে কতটুকু?
উত্তরঃ আমি সবসময়ই নতুনদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি।শুধু সুন্দর চেহারা হলেই ভালো অভিনয় করা সম্ভব না।তাই নতুন যারা অভিনয়ে আসতে চান তাদের বলব অভিনয় শিখে কাজে আসতে।নতুনদের সাথে কাজের আনন্দটাই অন্যরকম।

প্রশ্নঃ কি করতে বেশি ভাল লাগে?
উত্তরঃ সবচেয়ে বেশি ভাল লাগে নাট্যকার ও ফ্যাশন ডিজাইনার জহির করিমের সাথে আড্ডা দিতে, এছাড়া সিনেমা দেখতে,ভ্রমণ করতে,গুনীজনদের সাথে সময় কাটাতে অনেক ভাল লাগে।

প্রশ্নঃ পরিচালক হবার পর কোন ক্ষোভ বা কষ্ট আছে কি ?
উত্তরঃ ক্ষোভ বা কষ্ট কি জানিনা তবে এখন পর্যন্ত কোন পরিচালকের সহকারী হিসেবে কাজ করা হয়নি এ নিয়ে ভেতরে এক ধরনের অনুশোচনা কাজ করে।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যতের স্বপ্ন কি দেখেন?
উত্তরঃ ভবিষ্যতে সিনেমা বানানোর স্বপ্ন বুনছি।

প্রশ্নঃ অপছন্দ কি করেন?
উত্তরঃ অপেক্ষা করাটা খুব খারাপ লাগে, কথা দিয়ে কথা না রাখালে খারাপ লাগে।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ পরিবার এই তরুণ প্রজন্মের পরিচালক “রাহাত মাহমুদ”এর সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করে।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৬-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ