প্রতিবন্ধি শিপ্রারাণী শিক্ষিত হয়ে আলো ছড়াচ্ছে সমাজে

শাহাদাত হোসাইন সাদিক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা ।। শিপ্রারাণী ২৫ এপ্রিল ২০১৩ সালের দৈনিক ভিশন পত্রিকায় রায়পুরের প্রতিবন্ধি শিপ্রারানী শিক্ষিত হয়ে সমাজের সেবা করতে চায় নিউজটি প্রকাশিত হয়েছিল। আজ সেই শিপ্রারানী শিবপুর-কা নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক হিসেবে সমাজে অবদান রাখছেন। তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৩ সালের নভেম্বরের ১৯ তারিখ শিবপুর-কা নপুর সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ে চাকুরীতে যোগদান করেন। এর পর থেকে তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তার স্বপ্নের শিক্ষকতা পেশায় নিয়মিত ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার আলো বিলিয়ে দিচ্ছেন ছোট ছোট কমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে। তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধর এ রিপোর্টটি প্রকাশ হওয়ার পর তার অফিসে ডেকে নিয়ে আসেন শিপ্রারানীকে। তার স্বপ্নের কথা শুনেন এবং সার্বিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন। ধন্যবাদ জানিয়েছেন সহকারি শিক্ষক শিপ্রারানী সাবেক রায়পুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র সূত্রধরকে। সরেজমিনে গেলে আজ মঙ্গলবার সকালে শিবপুর কা নপুর সাঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদেরকে সুন্দর করে ক্লাস নিচ্ছেন তিনি। প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কা নপুর গ্রামের পান বল্লভ দাসের বাড়ীর বিজয় কুন্ড দাসের ছোট মেয়ে শিপ্রারানী দাস (২২) প্রতিবন্ধি হিসাবে জন্মগ্রহন করেন। ২ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তার বাবা মুড়ির ব্যবসা করে সংসার চালান। অভাব অনটনের মধ্যে তাদের দিন অতিবাহিত হয়ে চলছে। ছোট বেলা থেকে মেয়ে পড়ালেখার প্রতি বেশ আগ্রহ থাকায় সাংসারিক অভাব-অনটনের মাঝেও তার বাবা বিজয় কুন্ড পড়ালেখার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছোটকাল থেকে সে প্রতিটি ক্লাসে ভাল ফলাফল করে আসছে। সে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পরিক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে বর্তমানে সে রায়পুর রুস্তম আলী ডিগ্রী কলেজের বি.এ প্রথম বর্ষের ছাত্রী। জন্ম থেকে তার ডানহাত পঙ্গু থাকায় বামহাতে লেখাপড়া সহ সকল কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শিপ্রারানী জানায়, আমাদের অভাব অনটনের সংসারে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করতে হয়। বাবা মুড়ি ব্যবসায় করে আমাদের সকল ভাই-বোনের পড়ালেখা এবং ভরন-পোষন চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি টিউশনি করে মাসে ৩-৪ হাজার টাকা আয় করে আমার পড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছি। বাম হাতে লেখতে সমস্যা হয় কিনা জানতে চাইলে সে বলে আমার ডান হাত পঙ্গু হওয়ার কারনে বামহাতে অতিদ্রুত লিখতে পারি না। মাঝে মাঝে ডান হাতে প্রচন্ড ব্যাথায় অনুভব করি। আর্থিক অসচ্ছলতার অভাবে ভাল চিকিৎসা নিতে পারি না। আমি বামহাতে দ্রুত লিখতে পারলে পরীক্ষায় আরও ভাল ফলাফল করতে পারতাম। আমাকে কোন স্বহৃদয়বান ব্যক্তি যদি ডান হাতের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিত তাহলে আমি সুস্থ্য হয়ে সমাজ সেবায় আরও ভাল অবদান রাখতে পারতাম। আমি বর্তমানে প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছি। আশাকরি সাফল্যের সাথে পাশ করব। আমি একজন আদর্শ শিক্ষিকা হয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চাই। আমি সমাজের সকল বিবেকবান, স্বহৃদয়বান ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করি।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ডটকম/২৯-০৮-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ