প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এনবিআরকে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে : রিজভী

রাজনৈতিক রিপোর্ট : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) লেলিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘বিচার বিভাগকে আক্রমণ করে আওয়ামী দুঃশাসনকে দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’ শীর্ষক মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি সিনহাকে ধমক দিতেই তার সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। গওহর রিজভীকে আমরা ভালোভাবে চিনিও না, তার বাড়ি উত্তর প্রদেশে। তিনি ভালো করে বাংলা বলতে ও লিখতে পারেন না। তাকে প্রধান বিচারপতিকে ধমক দেয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যাননি।’’

তিনি বলেন, ‘আদালতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মৌন যুদ্ধ চলছে। ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণে জনগণের মনের কথা বলায় তাদের গা জ্বালা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে তাদের দলের প্রতিটি নেতারা তার সমালোচনা করছেন। শুধু তাই নয় তারা দুদক, এনবিআরকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেই একটা দুর্যোগ। এদের প্রতিহত করতে না পারলে দেশে শান্তি আসবে না। গণবিরোধী শক্তি যখন কোনো রাষ্ট্র দখল করে রাখে, সেই দেশে একটির পর একটি দুর্যোগ আসতেই থাকবে। একটি দুর্যোগ মোকাবিলার পরে আরেকটি চলে আসবে।’

প্রধান বিচারপতিকে জনতার আদালতে বিচার করা হবে আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জনগণ, পুলিশ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ তারা একটি বিশেষ আদালত করে প্রধান বিচারপতির বিচার করতে পারবে। প্রকৃত জনগণ তো তাদের বহু আগেই তালাক দিয়েছে। জনগণের আদালতে বিচার হবে তাদের, যারা বিডিয়ার বিদ্রোহ থেকে শুরু করে অসংখ্য গুম-খুন করে বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের চরিত্র এমনি, তারা গত ৬ দিনে বিরোধী দলের ২ জন নেতাকে গুম করে হত্যা করেছে।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতিশীল, শুধু এই সরকার নয়। রোহিঙ্গারা যখন মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে সমুদ্র পার হয়ে বাংলাদেশে আসছে, সীমান্তে তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে। তাদের কী বাঁচার অধিকার নেই? বিদেশি সংস্থাগুলোরও কোনো ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না।’

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ফরিদা মনি শহীদ উল্লার সভাপতিত্বে এবং এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য খালেদা ইয়াসমিন, জিনাপের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান প্রমুখ।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৯-আগস্ট২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ