রাখাইনে সবাইকে রক্ষায় চেষ্টা করছি : সু চি

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট : মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ রাখাইন প্রদেশের সবাইকে রক্ষা করতে তার সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
সু চি অবশ্য তার সাক্ষাতকারে রাখাইন থেকে নিপীড়নের মুখে গণহারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেননি। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসেবে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। বিগত ২৪ আগস্ট নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পরে গত ২ সপ্তাহে মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করল।
সু চি তার সাক্ষাতকারে বলেন, আমাদের নাগরিকদের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে, আমাদের দেশে যারা আছে সবার দায়িত্ব নিতে হবে হোক তারা আমাদের দেশের নাগরিক কিংবা অ নাগরিক। অবশ্যই আমাদের সম্পদ যথেষ্ট কিংবা আমরা যেমনটা চাই তেমনটা নেই, তবে আমরা সবার আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তিনি যোগ করেন, এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা ১৮ মাসে এই সমস্যার সমাধান করে ফেলব এমনটা ভাবা অযৌক্তিক, রাখাইন প্রদেশের পরিস্থিতি ঔপনিবেশিক আমল থেকে চলছে।
এর আগে সু চির কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাখাইন সংঘাত নিয়ে জঙ্গিরা ব্যাপকভাবে ভুয়া সংবাদ ছড়াচ্ছে। তবে সেখানেও রাখাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। পশ্চিমা সমালোচকরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের পক্ষে কিছু না বলায় সু চির শান্তিতে পাওয়া নোবেল পুরস্কার বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে ক্রমশই তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা জাতিগত নিশ্চিহ্নকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে যা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। মিয়ানমার বলেছে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যাতে এই বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাস না হতে পারে সেই জন্য রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে তারা আলোচনা করছে। খবর- হিন্দুস্তান টাইমস।

 

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৮-সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments are closed.