রায়পুরে গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, স্বামী পলাতক

শাহাদাত হোসাইন সাদিক, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে রুনু আক্তার (৩০) নামের এক গৃহবধুকে শ্বাসরোধ করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্বামী ফেরদৌস মোল্লার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ভোরে (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বামনী ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার পন্ডিতের বাড়ীতে। এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের মাতম বইছে।

নিহত রুনু আক্তার একই এলাকার মৃত আব্দুল হালিমের মেজো মেয়ে। এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে থানায় অভিযোগ হলে পুলিশ রুনুর লাশটি সদর হাসপাতাল মহিলা বেড থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর থেকে স্বামী ফেরদৌস পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে থানায় জামাতা ফেরদৌস মোল্লার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

নিহত রুনুর মা ফিরোজা বেগম ও বোন রাহেনা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকার গ্রীল ওয়ার্কসপ ব্যবসায়ী ফেরদৌস মোল্লা বিয়ে করেন রুনু আক্তারকে। তাদের সংসারে ৬ ও ৮ বছরের ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। ফেরদৌস মোল্লা ঢাকায় বসবাস না করে গত ছয় মাস ধরে তার শশুর এলাকা রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকা পন্ডিতের বাড়িতে রুনুকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পাশাপাশি ওই বাজারে গ্রীল ওয়াকর্সপ দোকান দিয়ে ব্যবসা করতেন। ব্যবসা ফাঁকে স্ত্রী- ২ সন্তান থাকা সত্তেও ফেরদৌস মোল্লা একই এলাকার এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় মেতে থাকতো। স্বামীর পরকীয়া জানতে পেরে রুনু ফেরদৌসকে একাধিকবার নিষেধ করায় মানুষিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন এর শিকার হন। বৃহস্পতিবার রাতে একই কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ফেরদৌস ক্ষিপ্ত হয়ে রুনুকে শারিরীক নির্যাতন করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে চিৎকার দেয়।

এ সময় আসে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে রুনুকে মৃত ভেবে তার অভিভাবককে খবর দিলে তাকে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার দ্রুত লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আহত রুনুকে প্রেরণ করেন। তাকে শারিরিক ভাবে নির্যাতন করে গলা টিপে মেরে মুখে বিষ ঢেলে দেয় বলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে বড় বোন রাহেনা কে বলে যান নিহত রুনু আক্তার।

রায়পুর থানার পরিদর্শক (ওসি- তদন্ত) মোঃ সোলায়মান বলেন, মৃত গৃহবধু রুনু আক্তারের লাশ সদর হাসপাতালের বেড থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মা জামাতা ফেরদৌস মোল্লার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ফেরদৌস মোল্লাকে গ্রেপ্তার এবং মৃত্যুর রহস্যটি উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ