মেসি আর্জেন্টিনার নাকি বার্সেলোনার?

স্পোর্টস রিপোর্ট : জাতীয় দলে গেলে যেন কী হয়ে যায় আর্জেন্টিনার ফুটবল জাদুক লিওনেল মেসির! আবার বার্সেলোনায় ফিরতেই সব ঠিকঠাক। দুদিন আগেও রাশিয়া বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে মুখ থুবড়ে পড়েছে আর্জেন্টিনা। সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তাদের জন্য এখন পাহাড় ডিঙানোর মত। ভেনিজুয়েলার মত দুর্বল দলের সঙ্গেও ড্র করতে হয়েছে। সেই মেসিই কিনা বার্সার জার্সিতে ২ ম্যাচে ৫ গোল করে বসলেন! এর মধ্যে একটি হ্যাটট্রিকও আছে। সমর্থকরা প্রশ্ন তুলেছেন, মেসি কি তার নিজ দেশ আর্জেন্টিনার, নাকি স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার?

ক্যাম্প ন্যু তে লা লিগার ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকে এসপানিওলকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে এরনেস্তো ভালভারদের দল। বাকী গোল দুটি করেছেন ‘এমএস’ এর অপর সদস্য লুইস সুয়ারেস এবং জেরার্দ পিকে। এই ম্যাচ দিয়ে অভিষেক হয়েছে উসমান দেম্বেলের। ১৯তম মিনিটে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা উরুগুয়ের সুপারস্টার সুয়ারেসের ফ্রি-কিক কোনোমতে ফিরিয়ে দেন পাও লোপেজ।

২৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ইভান রাকিতিচের ডিফেন্স চেরা পাস ধরে পায়ের কারিকুরিতে একজনকে ফাঁকি দিয়ে জায়গা করেন মেসি।

ছুটে আসছিলেন আরও দুইজন, তারাও খুব বেশি কিছু করতে পারেননি। আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের শট খুঁজে নেয় জাল। রিপ্লেতে দেখা গেছে অফ সাইডে ছিলেন মেসি।

৩৪ তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান মেসি। প্রতি আক্রমণ থেকে বল পাওয়া মেসি বল বাড়াতে চেয়েছিলেন জর্দি আলবাকে। একজনের গায়ে লেগে দিক পাল্টায় বল কিন্তু আরেক জনের গায়ে লেগে পেয়ে যান স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। তার কাটব্যাকে মেসির ডান পায়ের চতুর স্পর্শ গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করে জড়ায় জালে।

আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা মেসি ৬৭তম মিনিটে পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। তার কাছ থেকে বল পাওয়া সুয়ারেসকে ঠেকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন এসপানিওলের প্রায় সবাই। উরুগুয়ের স্ট্রাইকার শট না নিয়ে বল দেন আলবাকে। তার বুদ্ধিদীপ্ত পাস খুঁজে পায় অরক্ষিত মেসিকে। এবারের লিগে মেসির এটা পঞ্চম গোল। আর  লা লিগার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার গোল হলো ৩৫৪টি। পরের মিনিটে অভিষেক হয় বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া দেম্বেলে। তাতে আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ৮৭তম মিনিটে কর্নার থেকে পিকের গোল তারই ফসল। ৯০তম মিনিটে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সুয়ারেস।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১০-সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments are closed.