ভাণ্ডারিয়ায় ধর্মীয় শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা

ক্রাইম রিপোর্ট : পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মাওলানা নাসির উদ্দিন(৫৫)নামে এক ধর্মীয় শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্কুল শিক্ষক মারা যান। এ হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ পশ্চিম পশারীবুনিয়া সালাম হাওলাদার, তার ছেলে রমিজ হাওলাদার ও ভাগ্নে মিজানুর রহমান টিপুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত নাসির উদ্দিন (৫৫) ভান্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া নেছারউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন। তিনি ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পশারীবুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণি হাওলাদারের ছেলে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ইকড়ি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, ইকড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পশারীবুনিয়া গ্রামের মৃত সালাম হাওলাদারের সাথে প্রতিবেশী স্কুল শিক্ষক মাওলানা নাসির উদ্দিনের সাথে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল রবিবার সকালে জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সালাম হাওলাদার দলবল নিয়ে  স্কুল শিক্ষক নাসির উদ্দিনের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় স্কুল শিক্ষক নাসির উদ্দিন বাধা দিতে এলে তাকে ধারলো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা। এরপরে স্থানীয়রা শিক্ষক নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে প্রথমে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে রবিবার সন্ধ্যায় আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ভর্তি করা হয়।

সেখানে আজ সোমবার ভোর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

তিনি আরো জানান, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত স্কুল শিক্ষকের ছেলে পলাশ হাওলাদার বাদী হয়ে রবিবার ভান্ডারিয়া থানায় ১৩ জনেক আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

ভান্ডারিয়া থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় এজাহার নামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলাচ্ছে পুলিশ। ঢাকা মেডিকেলে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্কুল শিক্ষকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১১-সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ