রোহিঙ্গা নিধনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারজুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট : রোহিঙ্গা নিধনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারজুড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা বেড়ে চলেছে।

রয়টার্স অনলাইন জানিয়েছে, সোমবার মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা গেছে। হামলার আশঙ্কায় বৌদ্ধদের প্যাগোডায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ায় রোহিঙ্গাবিরোধী সহিংসতায় এরই মধ্যে নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১ হাজার রোহিঙ্গা। জীবন বাঁচাতে ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলিমরা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোববার সন্ধ্যায় প্রায় ৭০ জনের একদল বিক্ষুব্ধ বৌদ্ধ তলোয়ার ও লাঠিসোটা নিয়ে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ‘টাউং ডুইন গাই’-এর একটি মসজিদে হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা চিৎকার করে বলছিল, ‘এটি আমাদের দেশ, এ আমাদের মাটি।’ মসজিদের ইমাম মুফতি সানলেইমান এ বিষয়ে জানিয়েছেন।

বৌদ্ধরা যখন হামলা চালানোর চেষ্টা করছিল, তখন মসজিদের ভেতরে ছিলেন মুফতি সানলেইমান। টেলিফোনে তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আলো নিভিয়ে দিয়ে আমরা মসজিদ থেকে পালিয়ে যাই।’

এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, মসজিদে হামলা করতে আসা উত্তেজিত জনতাকে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে সরিয়ে দেয়। তাদের সরাতে রাবার বুলেট ছোঁড়ে পুলিশ।

রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতার প্রতিশোধ নিতে মিয়ানমারের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা ১১ সেপ্টেম্বর হামলা চালাতে পারে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে বৌদ্ধদের মধ্যেও উত্তেজনা বেড়ে যায়।

মিয়ানমারের জনসংখ্যা প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশ মুসলিম, যাদের অধিকাংশই রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা। কিন্তু মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে মুসলিমরা। তাদের সঙ্গে স্থানীয় অন্য ধর্মানুসারীদের দাঙ্গা বেঁধে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Comments are closed.