উ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট : উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ। সোমবার নিউ ইয়র্কের স্থানীয় সময় রাতে নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত মার্কিন প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়। চীন এবং রাশিয়াও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব পাশ হয়। উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধে বাধ্য করতে এর আগেও পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে কয়েক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গতমাসে (আগস্ট) উত্তর কোরিয়া এমন একটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে যা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা যায়। পিয়ংইয়ং বহুবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ক্ষেপণাস্ত্র বহনযোগ্য একটি হাউড্রোজেন বোমার সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করে পিয়ং ইয়ং।  গত সপ্তাহের চালানো পরীক্ষাটি ছিল হাইড্রোজেন বোমার। ষষ্ঠ দফায় চালানো এই পরমাণু পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন করে। পরিষদের ১৫ সদস্যদেশের সবাই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে রায় দেয়। মার্কিন প্রস্তাবে কয়লা, সীসা ও সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিকে এবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

শুরুতে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পুরোপুরি তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দেশটির নেতা কিম জং-উনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। সেখান থেকে সরে আসার পরই চীন ও রাশিয়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে রাজি হয়। রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ায় তেল পণ্য সরবরাহের পাশাপাশি নানান ধরনের ব্যবসা বাণিজ্যেও লিপ্ত। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ক’দিন আগেই ‍উত্তর কোরিয়ার উপর বাড়তি নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে কোনও লাভ হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন। বরং এ কারণে যে ‘যুদ্ধের উন্মাদনা’ শুরু হয়েছে তা বিশ্বে জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। রাশিয়ার মতো করে চীনও কূটনৈতিক উপায়ে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র নিয়ে তৈরি সংকটের সমাধানের পথ খোঁজার পরামর্শ দিয়েছে। চীন ও রাশিয়ার ভোট পেতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব শিথিল হয়। এদিকে গত সপ্তাহে রাশিয়া সফর করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। তিনি পিয়ংইয়ংকে আলোচনার টেবিলে আনতে রাশিয়ার কাছে  উত্তর কোরিয়ায় তেল সরবরাহ বন্ধের অনিবার্যতার কথা তুলে ধরেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সমর্থন কামনা করেন।

শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও ইচ্ছে নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেদনে বলা হয়, এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কথা বলার কিছু নেই। তবে তার প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেছিলেন কূটনৈতিক সমাধানে যেতে আগ্রহী তারা। এখন আবার ট্রাম্প বলছেন, ‘আমি সামরিক পথ বেছে নিতে চাই না।’ তবে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা একদমই উড়িয়ে দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে নিজের শক্ত অবস্থান অটল রেখেছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা একদমই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এটা অবশ্যই আমাদের মাথায় আছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর উত্তর কোরিয়ার কিজু এলাকায় ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার পর পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হয়। গত বছর সেপ্টেম্বরে চালানো পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষা থেকে এবারেরটি ৯ দশমিক ৮ গুণ বেশি শক্তিশালী বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ-র বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার দাবি নিয়ে সন্দেহ থাকলেও দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা যে বাড়ছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।উত্তর কোরিয়া নতুন করে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর পর বিশ্ব বাজারে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু শনিবার দেশটির ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নতুন কোনও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা না চালানোয় সোমবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শান্তভাব বিরাজ করছে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১২-সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ