গৌরীপুর উপজেলা বিলীনের পথে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে, গ্রামবাসী ভুগছে হতাশায়

আনিস মিয়া, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ২০১৫ সালের “ব্রহ্মপুত্রের উত্তাল স্রোতে ভাঙছে পাড়, বিলীন হয়ে যাচ্ছে গৌরীপুর উপজেলার  তিনটি গ্রাম” শিরোনামটি ছিলো সব পএিকাতেই ,ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সেই সময়  ব্রহ্মপুত্রে ভাঙনে বিলীন হয়েছিলো তিনটি গ্রাম। এখন ২০১৭  সালের ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে বিলীনের পথে গৌরীপুর উপজেলার অন্তত ১০ গ্রাম ।২০১৫ সালের  ৩৫টি পরিবারের বসতভিটা কেড়ে নিয়েছিলো ব্রহ্মপুত্রে  নদ।আর এখনকার ব্রহ্মপুত্রে ভাঙনে কতটি পরিবার যে ক্ষয়ক্ষতি পুহারে তার সঠিক কোন তথ্য পাওয়া য়াযনি।

গৌরীপুর উপজেলার অন্তত ১০ গ্রামে  চলতি বর্ষা মৌসুম থেকেই ভাঙন দেখা দেয়া গ্রামগুলো হলো অন্ততগঞ্জ, ভাটিপাড়া, ভাংনামারীর চর, উজান কাশিয়ার চর, বয়রা, খোদাবক্সপুর, দূর্বাচর, চরভাবখালী, গজারীপাড়া, খুলিয়ারচর । জানা যায় এই ১০টি গ্রামে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে তার মধ্যে ভাটিপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তারা এখন খুবই ঝুঁকিতে রয়েছেন।। ইতোমধ্যে এসব গ্রামের সহস্রাধিক একর জমির ফসল ও বেশকিছু বসতবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, চার বছর আগে চাঁদা তুলে নদে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও পরের বছরেই তা বিলীন হয়ে যায়। এ বছর বর্ষার শুরু থেকেই ভাঙন দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ২০১৫ সালের প্রথম দিকে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিলো সেই সময়। ২০১৫ সালের আগষ্ট- সেপ্টেম্বর মাসের বন্যায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ৩ বছর পর গৌরীপুর উপজেলার এবার ১০ টি গ্রাম  ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে মুখে ।

ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন,ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণের জন্য স্থানীয় এমপি কথা বলেছেন। উনার ডিও লেটার পেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে।

স্থানীয় এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি এরই মধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনে স্কুল, মসজিদ, অসংখ্য মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী শাসন ও ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। আশা করছি আগামী বর্ষার আগেই বাঁধ নির্মাণ হবে। কিন্ত এলাকাবাসী দাবি গত ৩ বছর ধরে আশাষ পেয়ে আসছি কিন্তু এখন পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১২-সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ