দুর্গা পুজার সময় প্রতিমা শিল্পীদের কদর বেশি, প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

পাপন সরকার শুভ্র, রাজশাহী প্রতিনিধি : চলতি মাসের ২৬ তারিখ হতে ষষ্টি পূজার মাধ্যমে শুরু হবে সোনাতন ধর্মের হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় সার্বোজনীন দুর্গোৎসব। ৩০ তারিখ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের এই উৎসব ঘিরে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠছে পুজার আমেজে।

এরই মধ্যে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মূর্তি শিল্পীরা। শিল্পীরা রাত-দিন প্রতিমা তৈরিতে তারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কার চেয়ে কে বেশি আকর্ষণীয় মণ্ডপ তৈরি করবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকে। শিল্পীদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় খড়, মাটি, পাট আর কাঁদায় তৈরি প্রতিমা উঠে দাঁড়াতে শুরু করেছে। শুধু বাকি পরিপাটি করে সাজানোর কাজটুকু।

সোমবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে তাদের এই ব্যস্ততা দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ডার নিয়ে তারা দিন রাত কাজ করছেন। বসে থাকার কোন সময় সেই তাদের। নগরীর গণকপাড়া, আলুপট্টি, সেখেরচক, সাগরপাড়া ও বোয়ালিয়া থানার সামনে তাদের অর্ডারকারীদের পছন্দের প্রতিমা তৈরী করতে দেখা যায় তাদের। কেউ আউর দিয়ে মুর্তি তৈরীর প্রাথমিক কাজ করছে, কেউ মাটি দিয়ে আউরের উপর আবরণ দিচ্ছে, কেউ আবার সেই মাটিকে সুন্দর মসৃন ও আকর্ষনীয় করার জন্য তুলির আঁচর দিয়ে আকর্ষনীয় করে তুলছেন।

বোয়ালিয়া থানার সামনে গিয়ে দেখা যায় ফরিদপুর থেকে আসা গণেশ কুমার পাল তার দলবল নিয়ে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত হয়ে আছেন। তার সঙ্গে রয়েছে রাজকুমার পাল, গৌরপাল, উজ্জল পাল, ঋষিকান্ত পাল ও শিল্পি পাল।

গণেশ বলেন তারা বংশ পরমপরায় তারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। দুর্গা পুজার সময় তাদের কদর বেশি এবং তাদের হাতে কাজ হচ্ছে বেশী। রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি থানা এবং মহানগর থেকে অর্ডার পেয়েছেন। মন্ডপের সংখ্যা বাড়ায় তাদের কাজও কিছুটা বেড়েছে বেশী বলে তিনি জানান। তিনি বলেন এবার ১৫টি প্রতিমা অর্ডার পেয়েছেন। একটি প্রতিমা তৈরী করতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে তাদের সারা বছর চলারমত কিছুটা উপার্জন হয় বলে তিনি জানান। তবে এটা দিয়ে সারাবছর থাকা খাওয়া এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো কষ্টকর।

এছাড়া পুজার সময় চলে গেলে তারা বিভিন্ন রকম খেলনা ও মাটির কাজ করেন। তখন বেশ কষ্টই হয়। তবে পুজা মৌসুমে পুসিয়ে যায়। কিন্তু তাদের সমস্যা হচ্ছে প্রতিমা তৈরির কারখানা ভাড়া নিয়ে। পুজার সময় মালিকরা ভাড়া দিতে চাননা এজন্য বারো মাস কারখানা ভাড়া নিয়ে থেকে ভাড়া দিতে হয়।

তিনি বলেন বিভিন্ন শিল্প কারখানা, শোরুম ইত্যাদি এরা ৫লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে সারাবছর ১০হাজার টাকা ভাড়া দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের পক্ষেতো এরকম সম্ভব না। পুজার সময় এক মৌসুমে ব্যবসা করে সারাবছর কারখানা ভাড়া নিয়ে ৪- ৫ হাজার টাকা ভাড়া চালানো আমাদের পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য। কয়েকবছর পর যখন কারখানা ভাড়া ১০-১২ হাজার টাকা হবে তখন কতদুর কি হবে বলা যাচ্ছেনা বলে জানান তিনি।

আরেকজন শিল্পী গোবিন্দ মালাকার বলেন, পুজার সময় তাদের কাজ ভালো হয়। পুজার মৌসুম চলে গেলে তারা ঝাঁকা, কুলা ইত্যাদি বানানোর কাজ করেন। কিন্তু তখন সংসার খরচ চালানো এবং সারাবছর খুব সমস্যায় চলতে হয়।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১২-সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ