চোখের সৌন্দর্য যেভাবে বাড়াবেন!

লাইফ স্টাইল রিপোর্ট : মুখমণ্ডলের শ্রীবৃদ্ধিতে চোখের গুরুত্ব সন্দেহাতীত। চোখের নিচে কালো দাগ পড়লে বা ফুলে গেলে সেই সৌন্দর্যের হানি ঘটে। প্রচলিত ধারণা মতে কম ঘুম হওয়া বা অধিক চা কফি পান করা বা দুশ্চিন্তা করা এ সমস্যার কারণ হলেও, আরো অনেক কারণ আছে।

কারণ:

বংশগত কারণ।

-বয়স বাড়লে।

– চোখের নিচে ফুলে যাওয়া ছেলেদের বেশি হয়।

– চোখের নিচে কালো দাগ পড়া মেয়েদের বেশি হয়।

– এলার্জিক কারণ, যেমন- প্রসাধনীর ব্যবহার।

– মোটাসোটা মানুষের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
– অনেক দিন ধরে কোনো কারণে (রোগ) চোখ ফোলা থাকলে চোখের নিচে কালি পড়তে পারে।

– হরমোনগত কোনো অসুখ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্যও হতে পারে।

চিকিৎসা :

১. যদি চোখের নিচের ফোলা প্রতিদিন সকালে হয় তাহলে তা চর্বি জমার জন্য নয়, এটি এলার্জিক কারণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে জন্য-
ক. প্রসাধনী ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে-
খ. খাবারে অতিরিক্ত লবণ (পাতে কাঁচা লবণ) খাওয়া চলবে না।

গ. রাতে শোবার জন্য অতিরিক্ত একটি বালিশ মাথার নিচে দিলে উপকার হয়।
২. আর যদি চোখের নিচে ফুলে যাওয়া চর্বি জমার জন্য হয় তাহলে সার্জারিই একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা।
৩. চোখের নিচে কালো দাগ কমানোর জন্য ট্রাইক্লোরো এসিটিক এসিড বা ফেনল সমৃদ্ধ লোশন বা ক্রিমের সাথে রেটিনে ও হাইড্রোকুইনোন স্কিন ব্লিচ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

পরিশেষে বলা যায় আপনার স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত সতর্কতা এ দু’টি সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট সাহায্য করতে পারে আপনাকে। তাই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আমাদের জন্য অতি জরুরি।

হাসি সুস্থ থাকার টনিক

বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ আর কেড়ে নিয়েছে আবেগ-হাসি। অফিসে কাজ, সংসারে ঝামেলা- দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ইত্যাদি। তাই সময় কোথায় বিশ্রাম, আড্ডা, খোশগল্প কিংবা আলাপচারিতার! এমনকি এতটুকু সময় নেই সামান্য একটু হাসার। আবার যদি কারো পদবি হয় অফিসের ‘বড় কর্তা’ কিংবা ‘বিগ বস’ তা হলে তো হাসি একদম নিষেধ। কারণ এতে নাকি ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয়। ছোট কর্তার হাসি নিষেধ, কারণ বড় কর্তা হয়তো হবেন রুষ্ট। মহা ঝামেলা। কিন্তু সামান্য একটু হাসি আপনার সুস্থতাকে কতখানি প্রভাবিত করতে পারে, তা যদি একটু খতিয়ে দেখতেন তবে হয়তো সব ভুলে আপনিও একটুখানি হাসতেন।

লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ক্লিনিক্যাল ইমিউনোলজি বিভাগের ডা: লোরেন্স বার্ক হাসি নিয়ে বিস্তর গবেষণা এবং কাজ করে অনেক মজার এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তার মতে, হাসি মানুষের উদ্বেগ বৃদ্ধিকারী হরমোন করটিসোল নিঃসরণ কমায়; যা আপনাকে করবে বিরুদ্বেগ। নির্মল হাসি রক্তে শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী লিস্ফোসাইটের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। হালকা হাসি হৃদযন্ত্রের গতি হ্রাস করে এবং সাথে সাথে উচ্চরক্তচাপকেও কমায়।

আপনি যদি প্রতি দিন ঘণ্টায় ৩০ সেকেন্ড হাসতে পারেন, তাহলে আপনার বুক ও কাঁধের গোশতপেশি সঙ্কুচিত ও প্রসারিত হয়ে আপনাকে করবে সতেজ এবং নিরুদ্বেগ। আপনার আক্রমণাত্মক একগুঁয়ে চরিত্রকে আমূল বদলে দেবে হাসি এবং সেই সাথে হার্ট অ্যাটাকেরও ঝুঁকি কমাবে। মানুষ কখনো একই সাথে হাসি এবং রাগ প্রকাশ করতে পারে না। তাই হাসি আপনার রাগকেও নিয়ন্ত্রণ করবে।

মুচকি হাসি আপনার ত্বককে করবে লাবণ্যময় এবং কর্মনীয়। কমেডি অর্থাৎ হাসির ছায়াছবি মানুষের মুখের লালার সাথে ইমিউনোগ্লোবিউলিন নিঃসৃত করে, যা এক ধরনের ঠাণ্ডা ও কাশি প্রতিরোধে কার্যকরী। তাই প্রতিদিন অন্তত একবার হলেও মনে মনে কিংবা মুচকি হাসুন আর যদি হন সাহসী তবে শব্দ করে অট্টহাসি হাসুন- এবং সুস্থ থাকুন।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ