মহাবীর ঈসা খানের ৪১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ রিপোর্ট ।। বাংলার মহাবীর বার ভূইয়ার অন্যতম একজন মসনদ-ই- আলা ঈশা খানের ৪১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৫৯৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আজকের এই দিনে বৃহত্তর ভাটিরাজ্যের অধিপতি মসনদ-ই- আলা ঈশা খান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

সাংবাদিক ও লেখক আমিনুল হক সাদীর “ভাটিরাজ্যের অধিপতি মহাবীর ঈসা খান ইতিহাসে উপেক্ষিত” প্রবন্ধে লিখেছেন, ১৫৩৬ মতান্তরে ১৫৩৭ সালের ১৮ অক্টোবর মতান্তরে ২৫ আগষ্ট বিবাড়িয়া উপজেলার সরাইলে জন্ম গ্রহণ করেন মহাবীর ঈসা খান। তিনি প্রথমে সরাইলে পরবর্তীতে সোনারগাওয়ে রাজধানী স্থাপন কওে পুর্ব বাংলার শাসক ছিলেন।
পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়িতে বৃহত্তর ভাটি রাজ্যের রাজধানী স্থাপন করেন। ৬২ বছরের মধ্যে ৩৬ টি বছরই মোঘলদের সাথে অবিরাম যুদ্ধের ফলে জীবনের উচ্ছলতায় ভাটা পড়ে যায় মহাবীর ঈশা খাঁনের।
১৫৯৯ খ্রিষ্টাদ্ধের দিকে ঈসা খাঁন কিছুদিনের বিশ্রামের জন্য সোনারগাঁও থেকে মহেশ্বরদী পরগণা বর্তমান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের বক্তারপুর দুর্গের প্রাসাদভাটিতে গমণ করেন। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে শারিরিকভাবে খুবই দুর্বল হয়ে যান।
রাজকীয় চিকিৎসায় অবিরাম চেষ্টা করেও তাঁকে সুস্থ করে তুলতে ব্যর্থ হন। এই অবস্থায় ১৫৯৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর ভাটিরাজ্যের অধিপতি মসনদ-ই- আলা ঈশা খান গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুরে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।
মহাবীরের জীবন ও কর্ম নিয়ে মাঠে ময়দানে ব্যাপক গবেষণা করছেন ইতিহাস বিশ্লেষক ও শিলালিপি অনুবাদক আমিনুল হক সাদী।

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ পরিবার থেকে যোগাযোগ করা হলে অনুসন্ধানে দেখা গেছে এই মুহুর্তে তিনি এগারসিন্ধুরে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে টেলিফোনে জানান, মহাবীর ঈসা খানের শুন্যতা কখনও পুরণ হবার নয়। তিনি শুধু আমাদের কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের জঙ্গলবাড়ির গর্ব নন সারা বাংলা তথা বিশ্বের গর্ব। এই মহাবীরের স্মৃতিবিজড়িত এগারসিন্ধুর আজ ইতিহাসে উপেক্ষিত। এ দুর্গটিতে বাংলার বার ভূইয়াদের প্রধান মসনদ-ই-আলা বীর ঈশা খাঁ’র একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। এ স্থানেই মুঘলদের সাথে তিনি অসম সাহসিকতার মাধ্যমে লড়েছিলেন এবং মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহকে পরাজিত করেছিলেন। বর্তমানে দুর্গ প্রাচীর কেটে পরিখাগুলো ভর্তি করে সেখানে জমি ও বাড়ী ঘর তৈরি করা হয়েছে। সমস্ত দুর্গ এলাকায় ছড়িয়ে আছে অসংখ্য প্রাচীন ইট পাথরের ভগ্নাংশ। দুর্গের ভেতরে প্রাচীন জলাশয় রয়েছে। যা স্থানীয়ভাবে বেবুদ রাজার দীঘি বলে পরিচিত। দীঘির পার্শ্বেই বেবুদ রাজার জমিদার বাড়ীর ভগ্নাংশ বিদ্যমান রয়েছে। ঈশা খাঁ’র দুর্গ নগরের পার্শ্বেই গরিবুল্লা শাহ নামক একজন সাধকের মাজারসহ অজানা বহু কবর রয়েছে।

একজন প্রত্নপ্রেমী শিক্ষার্থী জানান, এসারসিন্ধুরের ঐীতহ্য দেখে অভিভূত হয়েছি। মহাবীরের অনেক স্মৃতিবিজড়িত দুর্গটিকে দেখে ভাল লেগেছে। সবকিছু মিলিয়ে এগারসিন্দুর দুর্গ এলাকাটি খুবই সুন্দর যা পর্যটনের জন্য অনুকুল পরিবেশ। এই দুর্গটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় সংস্কার ও সংরক্ষণ করতে পারলে সরকারের যেমন রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে তেমনি বিশ্ব ইতিহাসে বাংলার মহাবীর ঈশা খাঁ’র ঐতিহ্যও রক্ষা পাবে বলে মনে করেন এই দর্শনার্থী।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৭-০৯-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ