কিশোরগঞ্জের খবর - ভৈরব - সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ

ভৈরবে পাইলিং বিহীন ৯তলা ভবন, আতংক আশ-পাশের জনমনে

সজীব আহমেদ, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) থেকে।। ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব মোঃ জিল্লুর রহমানের বাড়ীর উত্তর পাশে মুর্তুজ আলী নামে একজন ব্যবসায়ী পাইলিং ছাড়াই বহুতল ভবন (৯তলা) নির্মাণকাজ শেষে করে প্লাট বিক্রয় করে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে প্রতিবেশী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমার বাড়ীর পার্শ্বে এবং বর্তমান সংসদ সদস্য ও বিসিবি সভাপতি আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন সাহেবের বাস ভবন এর উত্তর পার্শ্বে মুর্তুজ আলী নামে এক ফ্ল্যাট ব্যবসায়ী পৌরসভার প্রকৌশলীকে ম্যানেজ করেই হইতো পাইলিং বিহীন ৯তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণ করে প্ল্যাট হিসেবে বিক্রয় করে যাচ্ছে।

পরে আমি জানতে পারি ঐ নির্মানাধীন বহুতল ভবন পাইলিং বিহীন হয়েছে। পরে পৌরসভার প্রকৌশলী কে জানালে তিনি বলেন, ছয়েল টেস্ট করেই এ ভবন নির্মাণ করতে অনুমতি দিয়েছি।

এছাড়া তিনি আরো বলেন, এ ভবনের পার্শ্বে আরো ৩টি বহুতল ভবন রয়েছে যার সবগুলোই পাইলিং করে নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া গত কিছুদিন পূর্বে এক ভুমিকম্পে ঐ ভবনের ২য়তলার পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের কোনের জানালার উত্তর পাশে ফাটল ধরে ছিলো পরে চুনা রঙদিয়ে ফাটাল মুছে দেওয়া হয়েছে।

তাই বর্তমান সময়ে গণগণ ভূমিকম্প হওয়া সত্ত্বেও পাইলিং বিহীন ৯তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মানে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে।

ভবনের মালিক মর্তুজ আলী বলেন, ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাদশা আলমগীর ছয়েল টেস্ট করেই এ ভবনের অনুমতি দিয়েছে।

এব্যাপারে ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ বাদশা আলমগীর। ” মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে “” বলেন, উক্ত ভবনের মাঠি ছয়েল টেস্ট করে ধারনা করা হয়েছে যে এ ভবনে পাইলিং করার কোন প্রয়োজন নেই।

তাছাড়া যেহেতু মাঠি ভালো তাই এ ভবনের সত্বাধিকারীর টাকা অপচয় করে লাভ নেই তাই পাইলিং বিহীন এ ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে।

এ ব্যাপারে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী বলেন, বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বেই যেখানে ভুমিকম্পের আতংকে বিরাজ করছে এবং কিছু দিন পর পর ছোট বড় ভূমিকম্প হচ্ছে তাই পাইলিং বিহীন ৯তলা বিশিষ্ট্য বহুতল ভবন নির্মাণ অবশ্যয়ই ঝুকিপূর্ণ।

এছাড়া ভৈরবের অধিকাংশ ভবন জরাঝির্ণ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ। অল্প মাত্রার ভূমিকম্পই ঘটতে পারে বড় ধরণের দূর্ঘটনা।

আধুনিক ভবনগুলোর ভবন নির্মাণ আইন মেনে তৈরি করা হলেও পুরানো প্রায় ১ হাজার ভবনের নেয় কোন ফাউন্ডেশন। পৌরসভার পক্ষ থেকে হেলে পড়া ও ফাটল ধরা ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুকিঁপূণ ভবনের তালিকা করে ভেঙ্গে ফেলার নিদের্শ দিলেও কাজে আসছেনা।

এসব ভবনে জীবন ঝুকি নিয়ে বাস করছে লাখ লাখ মানুষ। বৃটিশ শাষনামল থেকে ভৈরব একটি বাণিজ্যক নৌ-বন্দর হিসেবে পরিচিতি থাকায় চুন সুরকি দ্বারা গড়ে উঠেছে অংখ্য ভবন।

এর পর থেকে একে একে গড়ে উঠে হাজারের অধিক বহুতল ভবন। স্থানীয় পৌরসভার জরিপে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও ২৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনকে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ করলেও কোন কাজে আসছেনা। শহরের এসব ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুকিঁপূর্ণ ভবনে বাস করছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রায় লক্ষাধীক মানুষ।

সম্পতি ঘটে যাওয়া কয়েক দিনের ভূমিকম্পে সমান্য কাপোনিতে ভবন ধসে পরার আতঙ্কে দিন কাটছে এ শহরে বাস করা মানুষদের।

বেশ কয়েকটি ভবনের বড় বড় ফাটল দেখা দিলেও প্রশাসনের ও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। ঝুকিপূর্ণ ভবন সরিয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিবে কতৃপক্ষ এমনটায় দাবী ভুক্তভোগীদের।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৮-০৯-২০১৭ইং/ অর্থ

1 Comment

Comments are closed.