ডিমলায় সহিমুদ্দীন আহম্মেদ সরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনিয়ম

মোঃ জাহিদুল ইসলাম, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি ।। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে না। বিদ্যালয়টি প্রতিনিয়ত খোলা হয় আনুমানিক সকাল ১০.৩০ মিনিটে অথবা ১১.১০ মিনিটে এবং বিদ্যালয় বন্ধ করে দুপুর ০১.৩০ মিনিটে। কথাগুলো বললেন একই উপজেলার সহিমুদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ১১.৩০ মিনিটে পেশাগত দায়িত্ব পালন কালে সরেজমিনে দেখা যায়। ৭ জন শিক্ষার্থী বই বিদ্যালয়ের ভিতরে রেখে মাঠে খেলায় মত্ত। তাদের কাছে গিয়ে দেখা মিলে প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনিয়মের কথা। এর কিছুক্ষন পর পরেই দেখা মিলে সামের আলী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলে আমি জাহাঙ্গীর আলম ১ম শ্রেণির ছাত্রের পিতা। এই বিদ্যালয়টি অনিয়মিত ভাবে খোলা হয় বন্ধ এবং বন্ধ করে প্রধান শিক্ষক । প্রধান শিক্ষক শ্রী দিলিপ কুমার সিং বিদ্যালয়ে কিছুক্ষনের জন্য আসে আবার অল্প সময় কেটে ডিমলায় অফিসের কাজের কথা বলে তিনি চলে যায়।

এর পর কথা হয় এলাবাসীর সঙ্গে। তারা বলেন এই শিক্ষকের সস্পর্কে লেখালেখি করে কোন লাভ নাই, এনার হাত অনেক লম্বা। ওনার খেয়াল খুশিমত এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, তা বলার কেই নাই দেখার কেউ নাই ও শুনার কেউ নেই। বিদ্যালয়ের এই অনিয়মের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শ্রী দিলিপ কুমার সিং এর কাছে জানতে চাইলে আমারা দুই জন শিক্ষক এভাবেই বিদ্যালয় চালাবো। শিক্ষিকা হাবিবা নেহার সৌরভী এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি একাই যতটুকু পারি ততটুকু পাঠদান করাই। এই ভাবে তালে গোলে চলে এই প্রতিষ্ঠানটি অথচ শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নের লক্ষে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকদের নানাবিদ সুযোগ সুবিধা দিলেও শিক্ষকদের গরিমশির কারণে ভেঙ্গে পরে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি প্রধান শিক্ষকের অফিসে ঝুলিয়ে না রেখে তার হাতে বাম পার্শ্বে ময়লা আবর্জনায় ফেলে রেখেছে। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও জননেত্রী শেখ হাসিনার ছবি কথা প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ছবি ঝুলানের কোন দরকার হয় না যে কোন একজায়গায় রাখলেই হয়।
উক্ত বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন এটি অত্যান্ত দুঃখজনক। এভাবে চলতে থাকলে বিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও ভাবমুর্তি ভালো হবে না।

বিদ্যালয়ের অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুল আলিম এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করলে তিনি বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। অথচ বিদ্যালয়ের ঐ ৭ সাত শিক্ষার্থী মোছাঃ খুশি আক্তার (দ্বিতীয়), মোছাঃ তাছলিমা আক্তার (৩য়), মোঃ আলমঙ্গীর (দ্বিতীয়), মোছাঃ মমতাজ আক্তার (তৃতীয়), মোছাঃ তাছলি আক্তার (দ্বিতীয়) মোঃ সুজন ইসলাম (দ্বিতীয়) প্রমুখ এর সঙ্গে কথা হলে তারা বলে আমাদের স্কুলের কোন দিন ক্লাস হয় আবার কোন দিন ক্লাস হয় না। বিদ্যালয়ে প্রতিনিয়ত সকালে খুলে এবং দুপুরে আযান দিলে স্কুল ছুটি দেয়।
এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী আমাদের সন্তানদের সুষ্ঠু পাঠদান, শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে এবং বাতির নিচের অন্ধকার দুরভিত করার জন্য উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সংসদ সদস্যর সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ