রোহিঙ্গাদের গনহত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে কুলিয়ারচরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্টিত

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ।। মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম গনহত্যা, শিশু হত্যা, জীবিত অবস্থায় হাত-পা, গলা ও বিভিন্ন অঙ্গ কর্তন, জুলুম নির্যাতন সহ নারী ধর্ষণ বন্ধের প্রতিবাদে সারাদেশের ন্যায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে তৌহিদী জনতা ও ইমাম উলামা পরিষদ এর পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্টিত হয়েছে।

আজ ২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ভৈরব কিশোরগঞ্জ হাইওয়ে রাস্তার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসষ্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপজেলার জামিয়া আরাবিয়া নূরুল উলূম কুলিয়ারচর, জামিয়া সিদ্দিকিয়া বেতিয়ারকান্দি , দ্বাড়িয়াকান্দি সিএনজি শ্রমিক সংগঠন ,বড় ছয়সূতী বাজার মাদ্রাসা, মুক্তল হাটি একতা স্পোটিং ক্লাব, হযরত উম্মে হাবিবা (রাঃ) মহিলা মাদ্রসা , ছয়সূতী খাদেমূল ইসলাম হুসাইনিয়া মাদ্রাসা, মনোহরপুর আশরাফুল উলূম মাদ্রাসা, নিবীড় এ্যাসোসিয়েশন ও নোওয়াগাঁও হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক – শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিকবৃন্দ সহ এলাকার হাজার হাজার জনতা অংশ গ্রহন করেন।

পরে মানববন্ধন বাস্তাবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মাওঃ আসআদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল মিল্লাত , জামিয়া আরাবিয়া নূরুল উলূম কুলিয়ারচর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওঃ মুফতি আব্দুল কাইয়ূম খাঁন , জামিয়া সিদ্দিকিয়া বেতিয়ারকান্দি মাদ্রাসার মুহতামিম মাওঃ মুফতি ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার , মানববন্ধন বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মাওঃ জহিরুল ইসলাম,ছয়সূতী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জসিম উদ্দিন ,টিকাদার মোঃ বদিউল আলম ও সাংবাদিক মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্যাতনের চিত্র দেখে ও তাদের কষ্ট শুনে কেঁদেছেন। নির্যাতিত এ জনগোষ্টিকে মানবিক আশ্রয় দিয়েছেন। তা না হলে লাখ লাখ এই জনগোষ্টির লাশ নাফ নদীতে ভেসে উঠতো। তাদেরকে এদেশে আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছেন । পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত এই মানুষগুলোর ভালবাসা ও দোয়া আপনি পেয়েছেন। আপনার মত মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী আর কাউকে দেখিনি। আপনি বলেছেন, দেশের ষোল কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে । বিপদে পড়ে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদেরকেও খাবার দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। শুকরিয়া আপনার প্রতি ও আপনার সরকারের প্রতি। আপনি আবারো নারীর পরিচয় দিয়েছেন। জাতিসংঘের ভাষণে আপনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজেদের আবাস ভূমিতে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে। আপনি রোহিঙ্গাদের কষ্টের জীবনের কথা বলেছেন। তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আপনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মত উদার ধর্মপরায়ন ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। মিয়ানমার সরকারের সকল অপরাধীদেরকে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা ,গণধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নিতে সাহায্য সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবেন।

সমাবেশ শেষে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম গণহত্যা, শিশু হত্যা , গণধর্ষণ ,জীবিত অবস্থায় নির্যাতন বন্ধদের দাবিতে তৌহিদী জনতা ও ইমাম উলামা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ড.উর্মি বিনতে সালামের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা রুজু করিয়া ক্ষতি পূরন সহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ দৃষ্টান্ত মূলক বিচার ব্যবস্থা গ্রহনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি স্মারক লিপি পেশ করেন ।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২১-০৯-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ