কটিয়াদীকে কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন ইউএনও!

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ।।  “এই যোগ বিয়োগের রঙের মেলায় এলাম কেন তবে?বাজলে বাঁশি আবার যদি ফিরে যেতে হবে।” কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। যিনি কটিয়াদী উপজেলায় তিন বছর চার মাস চৌদ্দ দিন দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে আরো অনেকেই এ পদে আসীন হলেও কেউই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এমন বরণীয় হয়ে ওঠতে পারেননি। বিদায় বেলায় তাঁর সম্মোহন কাটিয়ে উঠতে পারেননি কটিয়াদীবাসী। তাদের চোখের জল আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়েই তিনি ছেড়েছেন সোয়া তিন বছরেরও বেশি সময়ের প্রিয় এ কর্মস্হল। পদোন্নতি পেয়ে রাঙ্গামাটি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নতুন দায়িত্ব দিচ্ছেন তিনি।

তার পদোন্নতি পাওয়ার সংবাদে কটিয়াদীবাসী যতোটা না উচ্ছ্বসিত হয়েছিল,তার চেয়েও বেশি বিষাদ তাদের ছুঁয়ে যায় বিদায় জানাতে গিয়ে। গত ১৫দিন যাবত উপজেলার বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পেয়েছেন অসংখ্য বিদায়ী সংবর্ধনা। যা উপজেলার ইতিহাসে বিরল।

উপজেলায় জনগুরুত্বপূর্ণ এ পদে যোগদানের পর থেকেই তিনি উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়,মাধ্যমিক বিদ্যালয়,কলেজসহ সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানের কাছেই ছিলেন আস্হাভাজন। সদালাপী বিনয়ী এ মানুষটি তার বিনয়,ভদ্রতা আর বিচক্ষণতায় হয়ে ওঠেন একজন সফল ও দক্ষ জনবান্ধব প্রশাসক। সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ আর কল্যাণমুখী প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে তিনি সহজেই সকলের আস্হা অর্জন করে নেন।উপজেলার জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ,মুক্তিযো­দ্ধা,কর্মকর্তা-কর্মচারী,শিক্ষক,ব্যবসায়ী,সাংবাদিক,বিভিন্ন পেশাজীবী ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের কাছে তিনি ছিলেন এক প্রিয় নাম।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব আইন উদ্দিনের নেতৃত্বে সকল ইউনিয়নের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যান, আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্হিত থেকে সংবর্ধনা প্রদান করেন।

বিদায়ী অতিথি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম যখন কটিয়াদীরের স্মূতি রোমন্হন করে বক্তব্য রাখছিলেন তখন এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ হলরুম কান্নায় ভারী হয়ে উঠে। এসময় উপস্হিত সকলেই বেদনাবিধুর ও অশ্রুসজল হয়ে পড়েন।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৩সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ