বগুড়ায় মাদ্রাসাছাত্রীর উলঙ্গ লাশ, হত্যা নিয়ে রহস্য

জেলা প্রতিবেদক : বগুড়ার শাজাহানপুরে আয়েশা সিদ্দিকা আশা (১১) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীর উলঙ্গ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। তবে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশা নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অটোটেম্পু চালক রাশেল মিয়ার মেয়ে। সে নিশ্চিন্তপুর দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আশা তার দাদীর ঘরে ৮ বছর বয়সী ছোট বোন রুবাইয়াকে সাথে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। একই ঘরে আলাদা বিছানায় দাদী ও ফুফাতো বোন সুফিয়া বেগম (২৫) এবং পাশের ঘরে আশার বাবা-মা ঘুমান। রাত পৌনে ৩টার দিকে ঘুম ভেঙে গেলে ঘরের দরজা খোলা ও আশাকে দেখতে না পেয়ে দাদী ও ফুফাতো বোন হইচই শুরু করেন। এরপর বাবা ও মাসহ সবাই খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
একপর্যায়ে বাড়ির উঠানে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পাশে ধানক্ষেতের আইলের ওপর আশার উলঙ্গ লাশ পাওয়া যায়। পরনের পায়জামা দিয়ে লাশের দুই পা বাঁধা ও জামা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ছিল। এ ছাড়া দুই কান ছিঁড়ে দুল নিয়ে যায় হত্যাকারীরা।
তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে মশারি কেটে আশাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় কান থেকে দুল ছিঁড়ে নিলো আর একই ঘরে থাকা দাদী, ফুফাতো বোন এবং পাশের ঘরে থাকা বাব-মা কেউ জানতেও পারলো না এটা রসহ্যজনক। মশারি কাটার বিষয়টিও রহস্যজনক।
তাছাড়া আশার ফুফাতো বোন তিন সন্তানের জননী সুফিয়া বেগম তার স্বামীর সাথে কলহের জের ধরে সন্তানদের রেখে গত এক মাস যাবত নানা-মামার বাড়িতে অবস্থান করেছে। ‍দুই দিন আগে আশার মাথা ন্যাড়া করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে হত্যার ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা গিয়ে মেয়েটিকে উলঙ্গ অবস্থায় পেয়েছি। তবে পায়জামা দিয়ে দুই পা এবং জামা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ছিল বলে মেয়েটির স্বজনরা জানিয়েছেন। হত্যার কারণ জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে মেয়েটিকে ধর্ষণেরও আলামত পাওয়া যায়নি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ছাড়া কোনো কিছু বলা যাবে না।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ