বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির জনপ্রিয়তার মাঠ ছাড়তে রাজি নন প্রার্থীরা

বগুড়া, জেলা প্রতিবেদক : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, জাসদ ও জাতীয় পার্টির পাশাপাশি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিতেও চলছে ব্যপক প্রস্তুতি। নির্বাচনে মুখোমুখি হবে হেভিওয়েট প্রার্থীরা। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন গোছাতে কাজ শুরু করেছেন ৩৯ বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। গনসংযোগ, সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক, দলীয় কর্মসূচীসহ তৃনমূলের নেতাকর্মীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। কে হবেন্#৩৯; আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী, এনিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারন ভোটারদের মাঝে চলছে জল্পনা-কল্পনা। গনসংযোগকালে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী নিজেকে দলীয় প্রার্থী দাবি করেও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইছেন। যদিও এই আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষনা দেয়নি বিএনপি। জনপ্রিয়তায় নিজেকে এগিয়ে নিতে নিয়মিত মাঠ চুষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে এবার পোষ্টার-ফেস্টুনের তুলনায় অনলাইন, ফেসবুক ও টুইটে ব্যাপকভাবে প্রচারনা দেখা গেছে। জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়েছেন অনেকেই।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির সাবেক সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা আলী মুকুল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীরাও তার সাথে নেই। গতবারের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপির সাবেক এই সাংসদ নির্বাচনী এলাকায় ফিরেও তাকাননি বলে জানিয়েছেন নেতাকর্মী।

এছাড়া দলীয় কর্মসূচী, জাতীয় কর্মসূচী ও গনসংযোগে পর্যন্ত তাকে দেখা যায়নি। তবুও সাবেক সাংসদ মোস্তফা আলী মুকুল বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। দলের হাইকমান্ডের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন বিএনপির এই নেতা। সংস্কারপন্থী আখ্যায়িত বিএনপির আরেক সাবেক সাংসদ ডাঃ জিয়াউল হক মোল্লা। নেতাকর্মীরা জানান- বিএনপির এই নেতাকে দলীয় কোনো কর্মসূচীতেই দেখা যায় না। এমনকি গনসংযোগেও মাঠে নেই। সংস্কারপন্থী হওয়ায় দল থেকে দূরে থাকা ডা: জিয়াউল হক মোল্লা দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এদিকে, গনসংযোগে তৎপর বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশ সক্রিয়। কেউ কাউকেই জনপ্রিয়তার মাঠ ছাড়তে রাজি নন। দলীয় কর্মসূচী ও গনসংযোগে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়তার মাঠ দখলে রেখেছেন, বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট রাফী পান্না। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রায়ই গনসংযোগ, মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক করে চলেছেন রাফী পান্না। দলীয় কর্মসূচী পালন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ দুস্থ অসহায় মানুষ এবং এতিমদের মাঝে খাবার, বস্ত্র, আর্থিক অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। মামলায় জর্জরিত ও কারাবন্দী নেতাকর্মীদের কারামুক্ত করাসহ অসুস্থ অসচ্ছল নেতাকর্মীর পাশে রয়েছেন এই মনোনয়ন প্রত্যাশী।

মামলায় জর্জরিত নেতাকর্মীদের পাশে জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা শ্রমিক দলের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন। অসহায় নেতাকর্মীদের আর্থিক সহযোগীতা থেকে শুরু করে মামলার খরচ পর্যন্ত চালিয়েছেন এই মনোনয়ন প্রত্যাশী। তৃনমুলের দলীয় কর্মসূচি পালন, শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ অসহায় ও এতিমদের মাঝে আর্থিক অনুদান অব্যাহত রেখেছেন। কর্মি প্রিয়তা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এই নেতা। এই আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ওলামা দলের সাধারন সম্পাদক। সরকার বিরোধী আন্দোলনে ২০ মামলার আসামি এই নেতা। বেশির ভাগ সময় বিভিন্ন মামলায় কারাগারে থাকায় মাওলানা ফজলে রাব্বী তোহা গনসংযোগে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন। মাঝে মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে গনসংযোগে নির্বাচনী এলাকাতেই সময় দেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে তার দীর্ঘদিনের সখ্যতা রয়েছে।

অপরদিকে, নিজেকে দলীয় প্রার্থী দাবি করেই কিছুদিন ধরে গনসংযোগে মাঠে নেমেছেন সুপ্রীম কোর্ট শাখা জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরামের সদস্য ও জিয়া ফাউন্ডেশন (লিগ্যাল সেল) কো-অডিনেটর এডভোকেট গোলাম আকতার জাকির।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির অন্যান্যরা হলেন- নন্দীগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আহসান বিপ্লব রহিম, সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র সুশান্ত কুমার শান্ত, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান একে আজাদ।

বিএনপির হাইকমান্ড থেকে যাকেই দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করবে, তার পক্ষেই কাজ করবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তৃনমূলের নেতাকর্মীরা।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৩সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ