নিজের নাম নিজেই রেখেছি “টাইগার ইসমাইল”

রাফা নোমান, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি : বাবা মা নাম রাখছিল ইসমাইল হোসেন আর সেই নাম পাল্টে হয়েছে টাইগার ইসমাইল। অন্য কেউ রাখে নি, সে নিজেই রাখছে। সে চায় ডন হতে,সবাই থাকে ভয় পাবে,  পুরা এলাকা থাকবে তার কন্ট্রোলে। তার বড় একটা বাহিনী থাকবে, সে যা বলবে তাই হবে তার এলাকায়, এক কথায় সে যে এলাকায় থাকবে সে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।
বলছিলাম নরসিংদীর স্টেশনে থাকা ইসমাইল  এর কথা, তার বয়স৮/ ৯ বছর।
এই বয়সে তার  বই খাতা হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা।  আর এই বয়সেই তার ভাবনা  ক্রাইম দুনিয়ার বড় গডফাদার হওয়ার। তার বাড়ী নরসিংদী শহরের পাশেই। ইসমাইলের পরিবারে বাবা, মা, ভাই বোন সবাই আছে।সবাই কাজ করে আলাদা অালাদা, থাকে বস্তিতে। ইসমাইল,  নরসিংদী ,  ঢাকা বিমানবন্দর, ও কমলাপুর   স্টেশনে পানি,জুস বিক্রি করে। মাঝে  মাঝে রাতে ট্রেনে বা স্টেশনেই ঘুমায়। ছোট বেলা থেকেই মারামির,চুরি  এসব দেখে বড় হচ্ছে ইসমাইল। বড় হয়ে সে তাই করতে চায়!
হয়তো এই  ভাবনা থেকেই একদিন সে আপরাধ জগতে ডুবে যাবে, আস্তে আস্তে ঢুকে যাবে নেশার রাজ্যে ।হয়ে উঠবে ক্রাইম জগতের গডফাদার।
এখনি যদি তার পুনর্বাসন না করা হয় তাহলে হয়তো ইসমাইলন হোসেন ঠিকি টাইগার ইসমাইল হয়ে উঠবে।
প্রতিটি স্টেশনে তার মত বাচ্চাদের নিয়ে একাধিক গ্রুপ আছে তাদের মাঝে ঝগরা হয় মারামারি হয়, ভবিষ্যৎ হয়তো মারামারি গুলো আকারে বড় হবে।
এই বড় হওয়ার মাঝে যদি কোন দিন খুলনায় শিশু রাকিব এর মত হয় তাহলে এ দায় কে নিবে?
সমাজে এমন অনেক ইসমাইল আছে, প্রতিটি ট্রেন স্টেশন,  বাস টার্মিনাল এ গেলে দেখা যায় এই ইসমাইলদের। এরা বড় হচ্ছে মারামারি, চিন্তাই এসব এর মাঝে। ধীরে ধীরে এরা জড়িয়ে পরবে বিভিন্ন ক্রাইমে। এদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যৎ  বড় বড় সন্ত্রাসী তৈরি হবে।তখন আমরা দূর থেকে ছিঃ ছিঃ বলে নাক ছিটকাবো।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এখনই এদেরকে সুপথে ফিরিয়ে না আনলে বাড়বে অপরাধ। ক্ষতিগ্রস্ত হবে সমাজ ও দেশ। শিশুরা যেভাবে বেড়ে ওঠা প্রত্যাশিত, সেভাবেই বিকাশের পথ করে দিতে হবে। তাদের আত্মপ্রত্যয়ী ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। আসুন, আমরা সবাই মিলে শিশুবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৮সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ