হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করিমগঞ্জে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান সুমন

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক : মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের তফসীল ঘোষণার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেনছে উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমন।

বৃহস্প্রতিবার দুপুরে জেলা শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এর প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন,আমি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের প্ররোচনায় পরিষদের সদস্য ইউপি চেয়ারম্যানগণ নানা কৌশলে আমাকে অসহযোগিতা করতে থাকেন। তাদের অসহযোগিতার কারণে বলতে গেলে আমি কোনই কাজ করতে পারি নাই। তারা আমাকে বিপদে ফেলার জন্য কোন রেজুলেষন ছাড়াই নানা প্রকল্পের বরাদ্দ দিতে আমাকে চাপ দিতে থাকেন। আমি তাদের চাপের কাছে নথি স্বীকার না করায় গোপনে সভা করে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা সিদ্ধান্ত নেন।স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা পরিষদ সংশোধনী আইন-২০১১ এর সংশ্লিষ্ট ধারা বলে গত ২৩ মে আমাকে আমার পদ থেকে অপসারণ ও আমার পদটি শূণ্য ঘোষণা করে। এরপর আমি যথারীথি আমার অপসারণের আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টের একটি রিট পিটিশন দাখিল করি।

রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট সরকারকে ২ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ রিট নিষ্পত্তির আগে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদটিকে শূণ্য না করার জন্য একটি রুল জারি করে। রিটটি বর্তমানে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলেও স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্প্রতি পদটিকে শূণ্য ঘোষণা করে ও নির্বাচন কমিশন তফসীল ঘোষণা করে মহামান্য হাইকোর্টের রুল অমান্য করেছে বলে তিনি দাবী করেন।

এ সময় কিশোরগঞ্জ সদর উপরেজলার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শরীফ,জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল আলম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন বাচ্চু,করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি দুলাল শিকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের
লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত করিমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও সহকর্মীদের সাথে অশালীন আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি পরিষদের দুজন ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মোট ১১ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনাস্থা প্রদান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে এবং এ বিষয়ে গোপন ব্যালটে সুমনের বিপক্ষে ১৩ টি ও পক্ষে একটি ভোট পড়ে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ এবং উপজেলা পরিষদ সংশোধনী আইন-২০১১ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় গত ২৩ মে অপসারণ করে পদটি শূণ্য ঘোষণা করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন। প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ৮ অক্টোবর, বাছাই ১০ অক্টোবর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১৭ অক্টোবর।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/২৮সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ