এবার কাঁদছে ফাহিমের মা! : কিশোরগঞ্জে এখন সন্ত্রাসীদের রাজত্ব

মো: আশরাফ আলী, স্টাফ রিপোর্টার ।। গত ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং বুধবার রাত্রে ফাহিমকে ১০/১২জন উঠতি বয়সী একদল সন্ত্রাসী বত্রিশ পৌর মহিলা কলেজের সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। ফাহিমকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। ফাহিমের চিৎকার শুনে পাশের জামাল মিয়ার দোকান থেকে কিছু লোক দৌড়ে এসে তাকে রক্ষা করে। ইতিমধ্যে তার গায়ে চারটি চাপাতির কোপ মেরে ফেলে। এতে ফাহিমের কপালে দেড় ইঞ্চি, গালে দুই ইঞ্চি, বুকে দুই ইঞ্চি, পিঠে পাঁচ ইঞ্চি হাড় কাটা যখম করে। নাইম, গালে কোপ দেয়, হৃদয় কপাল ও মাথায় কোপ দেয়, ফারদিন বুকে, দীপ্ত পিঠে, রবিন চোখের নিচে আঘাত করে। ফাহিমের চিৎকার শুনে রাজন, অন্তু, বুরহান ও দোকানদার জামাল দৌড়ে এসে তাদের হাত থেকে রক্ষা করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ সময় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ডাক্তার বলেন, রোগির বেচে থাকাটা অসম্ভব। তাই তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। যোগাযোগের সুবিধা ও রোগিকে বহন করার মত অবস্থা না থাকায় তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় জখমী ফাহিমের মা কেয়া আক্তার বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে হৃদয় (২০), দীপ্ত (২০), রবিন (১৯), ফারদিন (১৯), নাইম (১৯) সহ আরো অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, কিশোরগঞ্জ জেলায় এই ছেলেরাই কিছুদিন আগে নগুয়ায় এলোপাথারি মানুষ কুপিয়ে নিজেদের আত্মপ্রকাশ ঘটায়। এরপর কয়েক মাস গত হওয়ায় আবার বড় ভাই, ছোট ভাই ডাকা নিয়ে সন্ত্রাসীরা নিরীহ ফাহিমকে খুন করার উদ্দেশ্যে এলোপাথারি কুপায়। একই দিন এদেরই একটি অংশ হারুয়া অনেকগুলো বাড়িঘর কুপায়। এদেরই একটি অংশ ঈশাখা ইউনিভার্সিটির সামনে দুইজনকে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে আহত করে।

এলাকাবাসী জানান, কিশোরগঞ্জ শহর উঠতি বয়সি সন্ত্রাসীদের জন্য বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। তাদেরকে যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তাহলে মেয়ে ও ছেলেদের রাস্তায় বের হওয়া অসম্ভব।
অভিভাবকগণ জানান, এখনই এদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি সন্ত্রাসী এলাকা হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠবে। এখানে সৈয়দ আশরাফ ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির একান্ত সদিচ্ছা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে এখানে রাজনৈতিক ও ব্যক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হবে।

কেয়া আক্তার বলেন, এই সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক পরিচয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। ওরা যেভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠছে গত চার মাসে বিশটিরও বেশি হামলা হয়েছে পথচারির উপর। নগুয়া, হারুয়া, কলেজ মোড়, বটতলা মোড়, ইশাখা ইউনিভার্সিটি প্রাঙ্গন, বত্রিশ, মনিপুরঘাট, রেল স্টেশন, শোলাকিয়া, আখড়া বাজার, বিএডিসির মোড়, হয়বতনগর, পৌরসভা গেইট, কলাপাড়া মোড়, বার আউলিয়ার মোড়, গৌরাঙ্গ বাজার, সিটিল্যাবের সামনে, নয়া পল্লীসহ বিভিন্ন এলাকায় ইভটিজিং ও রাস্তায় মহড়া দেখে আঁতকে উঠি। পুলিশ প্রশাসন এর ভূমিকা নিরব কেন? আবার ভূমিকা নিয়ে এদেরকে গ্রেফতার করলে কাদের তদবিরে ছেড়ে দেওয়া হয়? এই প্রশ্নগুলো সাধারণ মানুষের।

বর্তমান অফিসার ইনচার্জ খোন্দকার শওকত জাহান বলেন, অধিকাংশ ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায় না। যেগুলো পাওয়া যায় এর বিরূদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ফাহিমের মার অভিযোগের ভিত্তিতে ফারদিনকে আমরা গ্রেফতার করেছি। হারুয়ায় পুুলিশের তৎপরতা বাড়িয়েছি। ঈশাখা ইউনিভার্সিটির ঘটনার মামলা নেওয়া হয়েছে। জনগণের সহযোগীতা পেলে এদেরকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পুলিশ আইনের কাজ যথাযথ পালন করছে। আপনাদের সহযোগীতা পেলে এদেরকে চিহ্নিত করে নির্মূল করা সম্ভব।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/৩০-০৯-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ