চোখে ট্যাটু : দৃষ্টি হারাতে বসেছেন মডেল!

রকমারি রিপোর্ট : আজকাল শরীরজুড়ে ট্যাটু করানোই ট্রেন্ড। হাতে, পায়ে, গলায়, ঘাড়ে, পেটে, পিঠে, মুখে- এক কথায়ও যেন বাদ পড়ে না।

ইদানিং পাড়ার অলি-গলিতে গজিয়ে উঠেছে ট্যাটু পার্লার। সেই ট্যাটু করিয়েই এখন দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন এক মডেল। ২৪ বছর বয়সী, কানাডার বাসিন্দা ক্যাট গ্যালিঙ্গার। পেশায় মডেল। এমনিতেই তাঁর সারা শরীরে রয়েছে অসংখ্য ট্যাটু। এবার তাঁর ইচ্ছে হয়েছিল চোখে ট্যাটু করানোর। ক্যাটের দাবি, বাঁ-চোখের সাদা অংশে বেগুনি রঙ ইঞ্জেক্ট করে অভিনব স্ক্লেরা ট্যাটু করাতে গিয়েই ঘটেছে বিপত্তি। চোখে সংক্রমণ হয়ে এখন প্রায় আংশিক দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছেন ক্যাট।

টাইম ম্যাগাজিনের খবর অনুযায়ী, ক্যাট জানিয়েছেন গত মাসেই চোখে স্ক্লেরা ট্যাটু করিয়েছিলেন তিনি। তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের পরামর্শেই এই ট্যাটু করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ক্যাট। সাবেক প্রেমিক নিজের একজন ট্যাটু আর্টিস্ট। তাঁর নিজের চোখেও রয়েছে সেই ট্যাটু। তাঁর চোখে কোনো সমস্যা না হলেও, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ক্যাটের চোখের পরিস্থিতি বেশ খারাপ। তাঁর চোখের ছবি নিজেই ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ক্যাট।
কী এই স্ক্লেরা ট্যাটু?
স্ক্লেরা ট্যাটু এক ধরনের পারমানেন্ট ট্যাটু। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অফথালমালজি’র রিপোর্ট অনুযায়ী, চোখের সাদা অংশে কংজাংটিভায় ছোট সূঁচ ফুটিয়ে এই ট্যাটু করা হয়। সূঁচ দিয়ে কালি এবং স্যালাইনের একটি মিশ্রণ চোখে ইঞ্জেক্ট করা হয়। সাধারণ ট্যাটু আর্টিস্টরাই এই ট্যাটু করেন। তবে স্পেশাল ট্রেনিং নিতে হয় তাঁদের।

এমনই ট্রেন্ডের শিকার ক্যাট গ্যালিঙ্গার। মডেলের অভিযোগ, প্রাক্তন প্রেমিককে বিশ্বাস করে তাঁর কাছেই ওই ট্যাটু করিয়েছিলেন তিনি। তবে ট্যাটু শিল্পীর প্রেমিক নাকি, তাঁর চোখে বড় সূঁচ ব্যবহার করে ট্যাটু তৈরি করেছিলেন। ট্যাটু করানোর পর থেকেই তাঁর চোখে অসম্ভব ব্যথা শুরু হয়। বাঁ-চোখ ফুলে গিয়ে চোখের থেকে রঙিন ফ্লুইড গড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এর পরই হাসপাতালে যান ক্যাট।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত ক্যাটকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। সোয়েলিং-এর জেরে বাঁ-চোখের দৃষ্টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই মডেলের। পুরোপুরি ক্যাট এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অবশ্য কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি চিকিৎসকরা।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/৩০সেপ্টেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ