ফাহিম সুস্থ না হতেই ডাক্তারের ছুটি : ইউএনও’র হস্তক্ষেপে পুনরায় হাসপাতালে

মো: আশরাফ আলী, স্টাফ রিপোর্টার ।। আজ ১ অক্টোবর রবিবার ২০১৭ দুপুর ১টার সময় কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ফাহিমকে অসুস্থ অবস্থায় ডাক্তার মোঃ মোল্লা নজরুল ইসলাম ছুটি ঘোষণা করায় ফাহিমের মা কেয়া আক্তার বিষয়টি নিয়ে জানাজানি করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদের হস্তক্ষেপে ফাহিমের ছুটি বাতিল করা হয় এবং সে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

গত ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং বুধবার রাত্রে ফাহিমকে ১০/১২জন উঠতি বয়সী একদল সন্ত্রাসী বত্রিশ পৌর মহিলা কলেজের সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। আজ ৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে কথা বলতে শুরু করেছে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেনি, দাঁড়ালে পরে যায়, খাবার খেলে বমি করে, এ যখন তার অবস্থা তখন ডাঃ মোল্লা নজরুল ইসলাম ফাহিমের শারীরিক অবস্থা উন্নতি বলে ছুটি দেন। ফাহিমের মা ছুটির কাগজে স্বাক্ষর করতে গেলে ছেলে পানি চেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মা নার্সকে জিজ্ঞেস করেন যে, আমার ছেলে ভালো হলে সে জ্ঞান হারায় কেন? নার্স তাকে বলেন, সব কথার উত্তর এখানে দেয়া যাবে না এবং কিছু জানতে হলে বাহিরে গিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বিষয়টি অবগত হয়ে ফাহিমকে দেখতে যান এবং তাকে দেখে তিনিও মর্মাহত হন। কেননা সে তো বসতেই পারে না। পরে ইন্টার্নি ডাঃ আদনান ইউএনও-কে বলেন, ফাহিম নিউরোলজিক্যাল সমস্যায় আক্রান্ত। এ সমস্যা সেরে উঠতে বা হাঁটতে তার ১ মাস সময় লাগবে। আমরা এখন তাকে ফিফটি ফিফটি বলে ধরে নিয়েছি। অর্থাৎ সে পুরোপুরি সুস্থ হয়নি, তবে মৃত্যুর ঝুঁকি মুক্ত। তাকে চিকিৎসা দেয়া হবে সুস্থ হবার জন্য এবং নির্দিষ্ট করে সুস্থ বলতে গেলে আরোও কিছুটা সময় লেগে যাবে। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আপনাদের কথামতো তার আরোও চিকিৎসার দরকার। সুতরাং, তার সুস্থ হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার নির্দেশ দেন। পরে ডেপুটি সিভিল সার্জন ও সিভিল সার্জনকে বিষয়টি অবগত করলে তার ছুটি বাতিল করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমের অবস্থা দেখে ফাহিমের আক্রমণকারী হৃদয় (২০), দীপ্ত (২০), রবিন (১৯), ফারদিন (১৯), নাইম (১৯) সহ আরো অজ্ঞাত ৫/৬ জন আসামীর বাড়িতে পুলিশি অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি গৌরাঙ্গ বাজার ব্রীজ, পুরান থানা ব্রীজ, বড় বাজার, পৌর মহিলা কলেজ রোড, নিউটাউন রোড, পৌর মার্কেট সহ বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এ সময় তিনি দুজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদঃ

এবার কাঁদছে ফাহিমের মা! : কিশোরগঞ্জে এখন সন্ত্রাসীদের রাজত্ব

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০১-১০-২০১৭ইং/ নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ