কুলিয়ারচরে এক মাদ্রাসার কার্যক্রমে বাধাঁ! খোলা আকাশের নীচে পাঠদান

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি ।। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে হিলফুল ফুযূল স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার কার্যক্রমে বাধাঁ প্রদান করায় খোলা আকাশের নীচে পাঠদান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

হিলফুল ফুযূল স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত মো. জয়নাল আবেদীন মাস্টার এলাকার শিশুদের দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করার জন্য তাঁর বাড়ির সামনে ছয়সূতী মৌজার-৩২৮ খতিয়ানের ৩২৬৪ দাগে ১০ শতাংশ ও বাড়ির পিছনে ১৬ শতাংশ এবং ৩৫৪৬ দাগে ৪১ শতাংশ ভূমি দান করে তাঁর বড় ছেলে পার্শ্ববর্তী আকবরনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম হারুনকে দায়িত্ব দেন। পিতা কর্তৃক দায়িত্ব পেয়ে হারুন মাস্টার ১৯৯২ সালে বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে দানকৃত ১০ শতাংশ জায়গায় ২ কক্ষ বিশিষ্ট ২টি ঘর নির্মাণ করে হিলফুল ফুযূল স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসা নাম করণ করে একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মাদ্রাসাটি মঞ্জুরী (রেজিষ্ট্রেশন) হয় ১৯৯৩ খ্রি.। এমপিও হয় ১৯৯৪ খ্রি.। মাদ্রাসার জায়গাটি মাদ্রাসার নামে খারিজ হয় ১৯৯৪ খ্রি. ১১ এপ্রিল । মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়ে এলাকার শিশুদের দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে থাকে। মাদ্রাসার দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন মাস্টার ১৯৯৯ খ্রি. মৃত্যুবরণ করেন। এরপর থেকেই জয়নাল আবেদীন মাস্টারের দুই ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম ও মাহাবুবুল আলমের মনে হিংসার জন্ম নিতে থাকে। তারা পিতার দানকৃত মাদ্রাসার সম্পত্তি জোর জবর দখল করে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে মাদ্রাসার সকল সম্পত্তি দখল করে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। প্রায় এক বছর আগে তারা বাড়ির সামনে মাদ্রাসার উত্তর ভিটের দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের বের করে দিয়ে মাদ্রাসা ভাংচুর করে। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বর্তমানে মাদ্রাসার দক্ষিণ ভিটে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘরে অফিস ও শ্রেণি কক্ষ করে পাঠদান করালেও অন্যান্য শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান করাচ্ছে খোলা আকাশের নীচে।

মাদ্রাসার ৫ম শ্রেণির ছাত্র মো. তৈয়মুর জাহাঙ্গীর অনুপম, ছাত্রী মার্জিয়া আক্তার ও লিজা আক্তার অভিযোগ করে বলে, তারা মাদ্রাসার মাঠে খেলা করতে গেলে আমিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী রাজিয়া অক্তার, সন্তান রানা, রাহাত ও হাসিনা এবং ছোট ভাই মাহাবুবুল আলম লাঠি ও ঝাড়ু দিয়ে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। তারা মাঠে খেলা করতে কিংবা যেতে পারছে না।

মাদ্রাসার দাতা সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম হারুন মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, তার ছোট দুই ভাইদের কথা মতো প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ না করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিকবার রাস্তায় ও তার বাড়িতে হামলা করে বাড়িঘর ভাংচুর করে। বর্তমানে তিনি প্রতিপক্ষের ভয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন বলে জানান। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন,গত ২৭ সেপ্টেম্বর আমিনুল ইসলাম ও মাহাবুবুল আলম লোকজন নিয়ে মাদ্রাসার উত্তর ভিটের ঘর ভেঙ্গে ইট ও টিন নিয়ে যায়। ২০১০ খ্রি. ১৪ জুলাই তারা মাদ্রাসা ভাংচুর করে জিনিস পত্র লুটপাট করে ও গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি আবেদন করে। এছাড়া প্রায় ১৪ বছর যাবত তার দুই ভাই মাদ্রাসার ৪১ শতাংশ সম্পত্তি জোর জবর দখল করে ভোগ করে আসছে। মাদ্রাসা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে মাদ্রাসার ঘর রক্ষা ও জায়গা উদ্ধারের সুব্যবস্থা করার লক্ষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে মো. আমিনুল ইসলাম ও মাহাবুবুল আলম তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাড়ির সামনের মাদ্রাসার জায়গা পরিবর্তন করে একই দাগে বাড়ির পিছনের জায়গায় মাদ্রাসাটি স্থানান্তরের দাবী জানানো হয়েছিল। এই নিয়ে বড় ভাই হারুন মাস্টারের সাথে তাদের তর্ক বিতর্ক হয়।

মো. মজলু মিয়া, মো. তাজুল ইসলাম মো. শহীদুল্লাহসহ একাধিক অভিভাবক বলেন, বাড়ির পিছনের জায়গায় মাদ্রাসা স্থানান্তর করা হলে জঙ্গলের মধ্যে তাদের সন্তানদের ওই মাদ্রাসায় লেখা পড়া করাবেন না বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আলতাফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে মাদ্রাসাটি রক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০২-১০-২০১৭ইং/ অর্থ

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ