বগুড়ায় নামেই এমপি আলতাফ, বিপর্যয়ে জাতীয় পার্টি

বগুড়া জেলা প্রতিবেদক : ঢাল নেই তলোয়ার নেই ‘নিধিরাম সর্দার’ অবস্থা। বগুড়া-৭ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য অ্যাড আলতাব আলী এমপির নির্বাচনী শাজাহানপুর-গাবতলী উপজেলায় টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ভিজিএফ, কর্মসৃজন প্রকল্প নিয়ে হরিলুট কারবার। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের টাকা ও সোলার প্যানেলের টাকা অধিকাংশই গেছে এমপির পকেটে। কাগজে-কলমে প্রকল্পগুলোর অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে নেই। নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প আত্মসাতের অভিযোগ ভোটারদের মুখে মুখে।

সুত্রমতে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ৪ লাখ ২২ হাজার ৭২ জন। নির্বাচনে বিএনপি ঘেঁষা এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী অ্যাডভোকেট আলতাফ আলী লাঙ্গল প্রতীক ও জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রার্থী এটিএম আমিনুল ইসলাম সাইকেল প্রতীক। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন না করার সুযোগে বগুড়া-৭ আসনে মাত্র ১৭ হাজার ৮৫৯ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আলতাফ আলী বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত হবার আগেও জাতীয় পার্টির দলীয় কর্মসূচীতে দেখা যায়নি সাংসদ আলতাফ আলীকে। সাংসদ নির্বাচিত হবার পরেও জাপা নেতাকর্মীদের খোজখবর রাখেননি। বিভিন্ন প্রকল্প হরিলুটের অভিযোগ সর্বত্রই। আলতাফ এমপি দলীয় নেতাকর্মী থেকে বিচ্ছিন্ন থাকাসহ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ব্যাপক অনিয়মের কারনে সাধারন জনতা থেকে শুরু দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে একাধিকবার লাি ত হয়েছেন জাপার এই সাংসদ আলতাফ আলী। দল ও নেতাকর্মীদের খোজখবর না রাখায় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে জাপা। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা এবার প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির সম্মেলন উপলক্ষে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় উপস্থিত হন- জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও বগুড়া-২ আসনের সাংসদ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক ও বগুড়া -৬ আসনের সাংসদ বিরোধী দলীয় হুইপ নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৩ আসনের সাংসদ নুরুল ইসলাম তালুকদার, বগুড়া-৭ আসনের সাংসদ এ্যাডঃ আলতাব আলী সহ বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতা। আলতাব হোসেনকে বক্তব্য রাখার জন্য মাইকে আহ্বান জানানো হলে তিনি বক্তব্য শুরু করতেই নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ে মঞ্চের নিচে বসে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে ধর-ধর বলে চিৎকার শুরু হয়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা মে উঠে সাংসদ আলতাব আলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তাকে লক্ষ্য করে প্লাস্টিকের চেয়ার ছুঁড়ে মারা হয়। সভায় বিভিন্ন বক্তারা তাদের বক্তব্যে আলতাব আলীর বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা তুলে ধরে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেণ।
এ সময় মে থাকা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি ও সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম ওমর এমপির হস্তক্ষেপে পরিস্থিত শান্ত হয়। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের হাত থেকে আলতাব আলীকে রক্ষা করেন। ঘটনা সামাল দিতে সাংসদ আলতাব আলীকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায় পুলিশ।

জেলা জাতীয় যুব সংহতির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাতেও দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন এমপি আলতাফ। এসময় নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন।

জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফর রহমান সরকার স্বপন বলেন, ঢাল নেই তলোয়ার নেই আলতাব এমপির ‘নিধিরাম সর্দার’ অবস্থা। জাতীয় পার্টির এমপি হলেও তিনি দলীয় কোনো কর্মসূচীই পালন করতে পারেননি। নেতাকর্মীদের খোজখবর পর্যন্ত রাখেনি। প্রকল্প হরিলুট ও বিভিন্ন অনিয়মের কারনে তিনি জনবিচ্ছিন্ন। গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার প্রকল্প হরিলুট, বিভিন্ন অনিয়ম, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনি জটিলতা সৃষ্টি করে আসছেন। জাতীয়পার্টির নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে টাকার বিনিময়ে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে থাকেন এমপি আলতাফ।

শাজাহানপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, এই লোকটাকে (এমপি আলতাফ) দলীয় কর্মসূচীতে দেখা যায় না। এরা কীভাবে দলের মনোনয়ন পায়। এমপি হবার পর থেকেও দলের নেতাকর্মীদের খোজখবর রাখেনা। পুরোপুরি জাপা নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন এই এমপি। পার্টি অফিস দেখতে কেমন বা কোথায়, সেটাও সে বলতে পারবেনা।

বগুড়া সদর উপজেলা জাপার সাধারন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম শহীদ বলেন, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসনে জনসমর্থিত ও দলীয় তৃনমুল নেতাকর্মী সমর্থিত প্রার্থীকে মনোনয়ন দিবেন পার্টির হাইকমান্ড, এটা আমরা প্রত্যাশা করি। তবে আলতাফ এমপিকে দুর্বল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করলেও এবিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।।

এদিকে, জাপার ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু বলেন, এই বিষয়টি জেলা নেতৃবৃন্দরা দেখবেন।

 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ