কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সৌন্দর্যবর্ধনে মেয়র পারভেজ মিয়ার পরিকল্পনা

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক ।। কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌর পরিষদ। দেড় শত বছরের পুরনো এই পৌরসভাকে একটি উন্নত পৌরসভায় পরিণত করার লক্ষে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ মিয়া। ২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে তিনি পৌরসভাকে ঢেলে সাজাচ্ছেন। ব্যাপক উদ্যোগ ও কাজের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব উন্নয়ন পরিক্রমায় বর্তমান পৌর পরিষদ বলিষ্ট ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে পৌর পরিষদ।

পৌর মেয়র পারভেজ মিয়া জানান, পৌরসভার ইউজিআইআইপি প্রকল্পের আওতায় ১৯ কোটি টাকার রাস্তা ও ড্রেন নির্মানের কাজ বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে। পৌর মার্কেটের স্থলে একটি আধুনিক পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ, ইউজিআইআইপি প্রকল্পের আওতায় ২ কোটি ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৯ শত ৭২ টাকার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সবার সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কিশোরগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলতে পারবো বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন,পৌরসভার ভেতরে কিছু এলাকায় ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। পুরাণথানা মোড়ে ফুয়ারা,বটতলা মোড়ে ফুয়ারা,আখরাবাজার ব্রীজের পাশে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের একটি ভাস্কর্য ফুয়ারা,রেল স্টেশনেও অনুরুপ আরেকটি ফুয়ারা তৈরী করা হবে। এ বিষয়ে বদরুল হাসান সোহেল নামে একজন ভাস্কর্য শিল্পী এসবের ডিজাইন তৈরী করছেন বলে জানা গেছে। ভাষ্কর্য শিল্পীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,পৌরসভার সৌন্দর্যবর্ধনে কিছু ভাষ্কর্যের ডিজাইনের কাজ এগিয়ে চলছে। কাজের ডিজাইনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,বটতলা মোড়ে যে ভাষ্কর্যটি হবে তার মধ্যে থাকছে কলম আলিফ ও পাল তোলা নায়ের প্রতীক। যে কলমের দ্বারা বুঝাবে গুরুদয়াল সরকারী কলেজ ও তার থেকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণকে। আলিফ হবে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের অনুস্বারে। পাল তোলা নৌকা বুঝাবে নরসুন্দা নদের তীরের অবস্থান কিশোরগঞ্জকে। এছাড়াও জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে ও মোড়ে এবং পৌর ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ পৌরসভার ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা গেছে, উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত একটি শহরের নাম কিশোরগঞ্জ। ১৮৬৯ খ্রীঃ ১লা এপ্রিল কিশোরগঞ্জ মিউনিসিপালিটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মহকুমা প্রশাসক মহোদয়ের অফিস সংলগ্ন বর্তমান পুরাতন স্টেডিয়ামের পূর্ব দক্ষিন কোনে একটি বিশাল বটবৃক্ষের নীচে ছোট্ট একটি টিনের ঘরে কিশোরগঞ্জ মিউনিসিপালিটির কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। ১৯২৩ খ্রীঃ উক্ত টিনের ঘর থেকে পৌরসভা অফিসটি নরসুন্দা নদীর দক্ষিন তীরে কুটিগির্দ্দি নামক স্থানে স্থানান্তরিত হয়। তৎকালীন কিশোরগঞ্জের কালীবাড়ী মোড়ের প্রতিষ্ঠিত ব্যাবসায়ী রঞ্জিত ঘোষের, পিতামহ কালাচাঁদ ঘোষের অর্থানুকূল্যে ইউ প্যাটার্নের একটি দালান ঘর প্রতিষ্ঠার পর সেখানে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মিউনিসিপালিটি অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। স্বাধীনতা লাভের পর কিশোরগঞ্জ মিউনিসাপালিটি নামকরণ থেকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নামে রূপাস্তরিত হয়। ঐ সময় পৌরসভার কার্যক্রমের প্রসার ঘটলে মূল ভবনের সামনে পরিবর্ধন করে কার্যালয়ের পরিধি বাড়ানো হয়। কিশোরগঞ্জের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নরসুন্দার দুই তীরে শহরটি গড়ে উঠে ক্রমাগত ভাবে। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা একটি “ক” শ্রেণীর পৌরসভা যা নয়টি ওয়ার্ডে বিভক্ত ও আয়তন ১০.৩৭ বর্গ কিলোমিটারের। এই শহরের পরিধি ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এ পৌর শহরটিকে ঘিরে চলছে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৩-১০-২০১৭ইং/অর্থ

 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ