গাইবান্ধার বালাসী ঘাট হতে পারে মন কাড়া বিনোদন স্পট

মোঃ মেহেদী হাসান, গাইবান্ধা থেকে : গাইবান্ধা শহর সংলগ্ন বালাসীঘাট বাঁধ এলাকা সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়াও প্রায় প্রতিদিনই ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিকেলে এখানে অনেকেই দল বেঁধে বন্ধুবান্ধব ও পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসেন। ঈদ, পূজা, নববর্ষ ও ভেলেন্টাইন ডে সহ বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে এলাকাটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে। শুধু জেলা শহর থেকেই নয়, আশপাশের জেলাগুলো থেকেও অনেকে বেড়াতে আসেন এখানে।
বালাসীঘাটের মনরম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। অনেকে সকালে সপরিবারে বেড়াতে এসে সারাদিন থেকে সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরছেন। সঙ্গে নিয়ে ফিরছেন আনন্দময় স্মৃতি। বালাসীঘাট বাঁধ এলাকায় বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাইবান্ধায় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র  নেই। ফলে শহর  থেকে প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার দূরে ব্রক্ষ্মপুত্র নদের কুলঘেষা প্রাকৃতিক  সৌন্দর্যমন্ডিত বাঁধ এলাকা ধীরে ধীরে সবার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ব্রক্ষ্মপুত্র নদের উত্তাল  ঢেউ, নির্মল বাতাস আর বাহারি নৈসর্গিক প্রকৃতি আগতদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়। দর্শনার্থীরা এখানে এসে নদীর  পাড়ে ঘুরে বেড়ানো, নদীতে নৌকাভ্রমণ, চরের মাঝে ফসলের জমিতে হাটতে এবং নদের উপর বেধে রাখা বাংলাদেশ রেলওয়ের ফেরীর ওপরে দাঁড়িয়ে নদীর বুকে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পান।
বালাসীঘাটে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী বলেন, ছুটি পেলেই এখানে বেড়াতে আসি। বন্ধু বান্ধবসহ নদীতে নৌকা ভ্রমন করা, গোসল করা এবং নদীর দুই পাড়ের চরের মনোরম পরিবেশ দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে এখানে দর্শনার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার স্থান নেই বলে তিনি আভিযোগ করেন।
দর্শনার্থী  আবির বলেন, ‘ বালাসীঘাটের কথা অনেক শুনেছি। এবার বেড়াতে এলাম। এসে দেখলাম, সত্যি খুব সুন্দর মনোরম প্রকৃতি রয়েছে এখানে। বিশেষ করে নৌকা ভ্রমন আমার আনেক ভালো লেগেছে, যে কেউ এখানে বেড়াতে এলে তার আনেক ভালো লাগবে।’
স্থানীয়রা বালাসীঘাটকে গাইবান্ধার একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। এর  সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে স্পটটিকে আরো আকর্ষণীয় করে সাজিয়ে তুললে বিনোদনের টানেই প্রতিদিন ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেবে।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৩অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ