৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেবে ভারত

অর্থনৈতিক রিপোর্ট : তৃতীয় লাইন অব কন্ট্রোল  (এলওসি) চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ দেবে ভারত। এ ব্যাপারে বুধবার বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে ‘ডলার ঋণরেখা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হতে পারে। এছাড়া দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষার জন্য  দুই দেশের মধ্যে চুক্তির ওপর যৌথ ব্যাখ্যামূলক নোটগুলোও স্বাক্ষরিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বুধবার সকাল ১০টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ঋণের আওতায় নেওয়া প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে ওই সভায়।

জানা গেছে, ভারত ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশকে ৩৫০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, দুই মন্ত্রী ২০১৫ সালের জুনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর এবং ২০১৭ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে গৃহীত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব উদ্যোগগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করবেন ।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের আমন্ত্রণে তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় আসেন ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। এদিন তিনি দুপুর ২টায় ভারতের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছেন। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান। এরপর অরুণ জেটলিকে নিয়ে যাওয়া হয় সোনারগাঁও হোটেলে।

জানা গেছে, এই  ৪৫০ কোটি ডলার ঋণের টাকা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবকাঠামো খাতে ব্যয় করা হবে। এই ঋণ ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৭ প্রকল্প বাছাই করা হয়েছে। এসব প্রকল্প যাচাই-বাছাই করতে সম্প্রতি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ‘নেগোসিয়েশন মিটিং’ করে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

গত বছরের নভেম্বরে পররাষ্ট্র সচিবের ভারত সফরের সময় তৃতীয় এলওসির বিষয়ে ভারতের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়। অবকাঠামো, দারিদ্র্য বিমোচন ও দুই দেশের সংযোগে ভূমিকা রাখে এমন প্রকল্প নিতে ভারতের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র সচিব সেই সময় দেশে ফিরেই ইআরডিকে চিঠি দিয়ে প্রকল্প বাছাইয়ের অনুরোধ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্প চূড়ান্ত করেছে ইআরডি।

এবার যেসব প্রকল্পে ঋণ দেওয়ার জন্য চুক্তি করা হবে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ অন্য স্থানে নেওয়ার অবকাঠামো উন্নয়ন, বুড়িগঙ্গা রিভার রেস্টুরেশন প্রজেক্ট, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, পায়রা বন্দরের টার্মিনাল নির্মাণ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ, সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নত করা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করা, মিরসরাইয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে এক লাখ এলইডি বাল্ব সরবরাহ, ঈশ্বরদীতে রেল ও সড়কপথের জন্য আইসিডি নির্মাণ, মংলায় ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তরল বর্জ্য শোধনাগারের যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর হয়ে সরাইল পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।

অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সফরকালে ভারতের অর্থমন্ত্রী পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে ‘ভারত সরকারের ম্যাক্রোইকোনমিক ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যুগ্মভাবে ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ক্যাশলেস ভিসা সার্ভিস পরিচালনার একটি নতুন স্কিম সেবা উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া দুই মন্ত্রী ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অব ঢাকা কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৪অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ