আদালতে হাজির হওয়ার শেষ বারের মতো সময় পেয়েছেন খালেদা জিয়া

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ ,
অক্টোবর ৫, ২০১৭ ৩:১৪ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট ।। যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগের মামলায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য শেষ বারের মতো সময় পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বৃহস্পতিবার মামলাটিতে খালেদা জিয়ার স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এ দিন খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হননি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম মো. নূর নবী তাকে শেষ বারের মতো সময় দিয়ে আগামী ১২ অক্টোবর আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন। ওই দিন আদালতে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে বলে জানিয়ে দেন আদালত।

এ দিন মামলার বাদী এবি সিদ্দিকী আদালতে হাজির ছিলেন।

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে স্বেচ্ছায় ৫ অক্টোবরের (আজ) মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। আত্মসমর্পণে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে চলতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান মামলার প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর গত ২২ মার্চ তা আমলে নিয়ে খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন আদালত।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন। ওই মন্ত্রী পরিষদে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের যারা প্রকাশ্য এবং আত্মস্বীকৃতিরূপে পাকিস্তানের দোসর হিসেবে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, আলবদর, আলসামস কমিটির সদস্যদের নিয়ে মন্ত্রী ও এমপি বানান। পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। তার মধ্যে তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রীত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিদের তার মন্ত্রী সভায় মন্ত্রীত্ব প্রদান করে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে উক্ত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভুলন্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অন্যদিকে প্রচলিত আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হলো।’

উল্লেখ্য, স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি ঘটানোর অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী সিএমএম আদালতে একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। ওই দিন ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম তেজগাঁও থানার ওসিকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তার প্রয়াত স্বামী জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়।

Comments are closed.