‘লাখ লাখ কাতালানকে উপেক্ষা করছেন স্প্যানিশ রাজা’

আন্তর্জাতিক রিপোর্ট : কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ স্প্যানিশ সরকারের অবস্থানকেই গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন কাতালান নেতা কার্লেস পুইজমন্ট। তবে কাতালানরা নিজেদের পথেই হাঁটবে জানিয়ে আগামী সপ্তাহেই নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া ভাষণে পুইজমন্ট রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের বক্তব্যের এমন কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘রাজা ইচ্ছাকৃতভাবেই লাখ লাখ কাতালানকে উপেক্ষা করছেন। তার অবস্থান স্প্যানিশ সরকারের অবস্থানকেই তুলে ধরেছে।’

এর আগে, রবিবার (১ অক্টোবর) স্বাধীনতার প্রশ্নে কাতালানদের গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) টেলিভিশনে ভাষণ দেন রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ। ওই ভাষণে তিনি কাতালানদের গণভোটকে বেআইনি ও অগণতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করেন।

স্প্যানিশ রাজার এমন অবস্থানকে স্পেন সরকারের অবস্থানের সঙ্গেই তুলনা করেছেন কাতালান নেতা পুইজমন্ট। স্পেনের সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজার ওপর স্পেন ও কাতালোনিয়ার মধ্যে মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও রাজা সেই দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এদিকে, স্পেন সরকারের পক্ষ থেকে পুইজমন্টের বক্তব্য খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কাতালান এই নেতা স্পেনকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতে চাইলেও তাতে সাড়া দেবে না মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনও ধরনের আলোচনা করার আগেই পুইজমন্টকে আইনের পথে ফিরতে হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজার সমালোচনা করেই পুইজমন্ট প্রমাণ করেছেন যে তিনি ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ হয়ে পড়েছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার পুইজমন্ট বিবিসিকে বলেছিলেন, এ সপ্তাহের শেষের দিকে বা সামনের সপ্তাহের শুরুর দিকেই কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা আসতে পারে। অন্যদিকে, কাতালান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবার সংসদে তারা বিশেষ এক অধিবেশনে বসবেন, যেখানে আলোচিত এই গণভোটের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

উল্লেখ্য, নিজেদের স্বাধীনতার দাবিতে স্পেন সরকারের বিরোধিতার মুখে গণভোটে অংশ নেয় কাতালানরা। এখনও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা না হলেও গণভোটে ৯০ শতাংশ কাতালান স্বাধীনতার পক্ষেই রায় দিয়েছে বলে জানিয়েছে কাতালান কর্তৃপক্ষ।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৫অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ