শিগগিরই নতুন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পরিকল্পনা নেই

শিক্ষা রিপোর্ট : সরকারের পক্ষ থেকে বার বার আশ্বাস দেওয়ার পরও গত ছয় বছরে নতুন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। শিগগিরই নতুন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিরও পরিকল্পনা নেই মন্ত্রণালয়ের। বরং এমপিওভুক্তির পরও ব্যর্থ হওয়া  তিন হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিব্রত মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনাকালে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সরকারি মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, ‘এই মূহূর্তে নতুন করে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির চিন্তা-ভাবনা নেই। এমপিওভুক্তির বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি কমিটি করা হয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। বিষয়টি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে হাতে।’

২০১৬ সালের ৭ জুন ২০১৫-১৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছিলেন, ‘১৯৮৮ সালে এমপিওভুক্ত ৯ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন এই সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এর এক-তৃতীয়াংশই খামাখা হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী এই বক্তব্যের প্রায় ১৭ মাস পর অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ জানান, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলোচনা চলছে।’ তবে এমপিও ছাড়ের বিষয়ে কোনও দিক-নির্দেশনা আছে কিনা, তা জানাতে পারেননি তিনি।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি সম্ভব।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষামন্ত্রীর আগ্রহ থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি নিয়ে বাস্তবে কোনও পদক্ষেপ নেই। পরিকল্পনামন্ত্রীকে সভাপতি করে কমিটি গঠন করা কমিটি পূর্ণাঙ্গ রূপ না পাওয়ায় বাস্তবে এর কোনও কার্যক্রম নেই বলে জানান তারা।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে সর্বশেষ এক হাজার ৬২৪টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১১ সালে এক হাজার স্কুল-মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির  ঘোষণার পরও তা হয়নি। অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে এমপিওভুক্তি সাময়িক বন্ধ রয়েছে বলে জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে।

২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২০ বারের বেশি আন্দোলন হয়েছে। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কাফনের কাপড় পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পরও এমপিওভুক্তির সুযোগ পায়নি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ জন্য এমপিওভুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান এমপিও পাওয়ার কারণকে দায়ী করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, ‘যেখানে প্রয়োজন নেই, সেখানেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে।’

তবে নতুন করে এমপিও দেওয়া যায় কিনা, তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়াসহ ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিভুক্ত না করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে একটি নীতি করার উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই উদ্যোগেরও কোনও গতি নেই বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একধিক কর্মকর্তা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ২৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন তিন লাখ ৫৭ হাজার ২৮৮ জন। কর্মচারী রয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৭৫ জন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কুল রয়েছে ১৬ হাজার ১১৮টি, কলেজ ২৩৭০টি ও সাত হাজার ৫৯৭টি মাদ্রাসা।

বর্তমানে এমপিও না পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় আট হাজার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী এমপিওভুক্তির উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে পাঁচ হাজার ২৪২টি।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৫অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ