ভৈরবে আ. লীগ নেতা মানিক হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

সজীব আহমেদ, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি।। ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক ভূঁইয়া (৫০) কে হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ভৈরব বাসস্ট্যান্ড দুর্জয় মোড় এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মানববন্ধন করা হয়।

এর আগে শহরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মানববন্ধনস্থলে এসে শেষ হয়। সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে দুই হাজারেরও বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু অংশ নেয় বলে আয়োজকরা জানান।

কর্মসূচি থেকে মানিকসহ গত নয় মাসে প্রতিপক্ষের হামলায় সাদেকপুরের কিপিংবাড়ির অহিদ মিয়া ও মোবারক হত্যার বিচার দাবি করা হয়। মানিক হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী উল্লেখ করে মামলার প্রধান আসামি, সাদেকপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সরকার সাফায়াত উল্লাহসহ সব আসামির গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন।

ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন মো. বাবুল মিয়া, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাজিদুল ইসলাম, সাদেকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সদস্য আছমা বেগম, সাদেকপুর ইউনিয়ন সৈনিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মাস্টার, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি নূরুজ্জামান, ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মুসলিম মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

গত শনিবার রাত ১০টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার রাজাপুর থেকে নৌকায় করে রসুলপুর নিজ বাড়িতে ফেরার পথে মেন্দিপুর খেয়াঘাট এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত মানিক ভূঁইয়াকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত মানিক সাদেকপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের কিপিংবাড়ির লাল মিয়া ভূঁইয়ার ছেলে। মানিক ভূঁইয়া হত্যার ঘটনায় তাঁর ছেলে সুজন ভূঁইয়া বাদী হয়ে গত সোমবার ওই ইউপির চেয়ারম্যান সরকার সাফায়াত উল্লাহকে প্রধান আসামি করে ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ এ পর্যন্ত ওই মামলার সন্দেহজনক অভিযুক্ত হিসেবে পাঁচজনকে আটক করেছে।

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৬অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ