নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন প্রধান বিচারপতি : দুদু

রাজনৈতিক রিপোর্ট : নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশ’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র ও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এই দাবি করেন তিনি।

দুদু বলেন, ‘যে দেশে নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছাড়তে হয়, সে দেশে আর থাকলো কী? তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের বয়স হয়েছে, কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ, কিছুই বুঝি না। আজকে সরকারের অবস্থা হয়েছে সে রকম, ভালো-মন্দ বোঝে না। আজকে এমন কোন ব্যাংক নেই যেটা লুট হয়নি।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এসকে সিনহার মতো প্রতিটি লোক ভয়ে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। আজকে প্রধান বিচারপতির মতো লোকের নিরাপত্তার অভাবে দেশ ছাড়তে হবে, সে দেশে আর থাকলো কী? আমরা বিচারের জন্য যাই আদালতে, সেখানেই এই অবস্থা।’

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা দেয়ার সমালোচনা করে দুদু বলেন, গতকাল সংবর্ধনার নামে আওয়ামী লীগ যা করেছে তা দেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘ভাল কাজ করলে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, আপনাকে জনগণও সংবর্ধনা দেবে। আপনার যদি ভাল কাজ করার ইচ্ছে থাকে তাহলে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। লুট হওয়া ব্যাংকের টাকা ফেরত আনুন। শেয়ারবাজারের অর্থ ফিরিয়ে দিন। গুম হওয়া মানুষগুলোকে ফিরিয়ে দিন তাহলে দেশের মানুষ আপনাকে সংবর্ধনা দিবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজকে সরকারের পাশে চীন নাই, রাশিয়া নাই। বিশ্বের কোন দেশ সরকারের পাশে নাই। রোহিঙ্গারা এমনি এমনি এদেশে আসেনি, শেখ হাসিনার ব্যর্থতায় রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে ঢুকেছে। রোহিঙ্গা ইস্যু সরকারের পুরোপুরি ব্যর্থতার কাহিনী। চীন, ভারত, রাশিয়াসহ কোন দেশ নেই বাংলাদেশের পক্ষে। শেখ হাসিনা পুরোপুরি ব্যর্থ।

দেশকে রক্ষা করতে হলে এই সরকারকে বিদায় করতে হবে জানিয়ে দুদু বলেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক দল। তাই সামরিক শাসন চাই না। যদি সৎ উদ্দেশ্য থাকে আলোচনায় আসুন।’

বিএনপি সামরিক শাসন চায় না এমন দাবি করে দুদু বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে হবে। সব সামরিক শাসন সমর্থন করেছেন শেখ হাসিনা। ১৯৮২ সালে, ১৯৯৬ সালে, ২০০৬ সালে সামরিক শাসনকে শুধু সমর্থনই না, তাদের সমস্ত কার্যক্রমকে সমর্থন করেছিল। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে গণতান্ত্রিকভাবে, ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন।’

মানববন্ধনে ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বক্তব্য দেন।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৮অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ