আমি অধিনায়কত্ব ছাড়বো কেন?- মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্ট : মুশফিকুর রহিম কেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক? প্রশ্নটা কয়েক দিন ধরে ঘোরাফেরা করছে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে টাইগার-ভক্তদের মুখে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে গুঞ্জন উঠেছিল, মুশফিক টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন।

না, দায়িত্ব ছাড়েননি বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক। এক সিরিজের ব্যর্থতায় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। যদিও টেস্ট অধিনায়ক থাকবেন নাকি থাকবেন না, সেই সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডের ওপরে।

মাত্র আড়াই দিনে ব্লুমফন্টেইন টেস্ট হেরে যাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে সবার আগে এলো টেস্ট অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গ। বোর্ড তাকে সরানোর কথা ভাবছে কিনা প্রশ্নে মুশফিকের উত্তর, ‘আমাকে সরানোর সিদ্ধান্তের ভার বোর্ডের। তারাই আমাকে এই সম্মান, দেশের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দিয়েছে। আমি সততার সঙ্গে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারা সন্তুষ্ট না হলে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

তবে মুশফিকের নিজে থেকে সরে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই আপাতত, ‘আমি কেন সরে যাব? এটা তো কোনও ব্যক্তিগত খেলা নয়, দলীয় খেলা। অবশ্যই অধিনায়ক হিসেবে সব ব্যর্থতার দায় আমার। আমি সেটা মেনেও নিচ্ছি। দেশকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জন্য অনেক সম্মানের, আমি গর্বিত। আমি দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতে পারি না, এটা বোর্ডের সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, তারা দলের জন্য ভালো সিদ্ধান্তই নেবেন। দেশ সবার আগে। বোর্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি অবশ্যই তা মেনে নেব।’

আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের পরের সিরিজ ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই সিরিজে ভালো খেলার আশাবাদ জানিয়ে মুশফিকের মন্তব্য, ‘পরের সিরিজের আগে অনেক সময় আছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমি যা করেছি, তাতে খুশি। আমি সব সময় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি। টিম ম্যানেজমেন্টও তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে। আমি মনে করি, দল ভালো করলে সব কৃতিত্ব যায় টিম ম্যানেজমেন্টের দিকে। আর দল ভালো না করলে দায় এসে পড়ে অধিনায়কের ওপর। আশা করি, বাংলাদেশ গত দুই টেস্টে যা করেছে তার চেয়ে অনেক ভালো করবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।’

২০১১ সাল থেকে টাইগারদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মুশফিক। টানা তিন বছর ছিলেন তিন ফরম্যাটেরই অধিনায়ক। ২০১৪ সালে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় মাশরাফি মুর্তজার হাতে। দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টের সিরিজে খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে সমালোচিত হলেও হতাশ নন মুশফিক, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। খারাপ করলে তো অধিনায়কের দোষ হবেই। আমি তা অস্বীকার করছি না। আমি চেষ্টা করেছি, ব্যর্থ হলে খারাপ তো লাগবেই।’

ব্লুমফন্টেইন টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে সীমানার কাছে ফিল্ডিং করার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুশফিক বলেছিলেন, টিম ম্যানেজমেন্ট চায় বলেই তিনি এমনটা করছেন। তার এই বক্তব্যের পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হোসেন।

রবিবার এ প্রসঙ্গে মুশফিক বলেছেন, ‘যা ঘটেছে, শুধু তারই বর্ণনা দিয়েছি। আমার মন্তব্যে খুশি না হলে তাদের অধিকার আছে আমার বা দলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমি চাই না আমার কারণে দলে খারাপ প্রভাব পড়ুক। সব সময় চেষ্টা করেছি, সৎভাবে দলকে অনুপ্রাণিত করতে।’

ভবিষ্যতে ভুল শুধরে দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার আশাবাদও জানালেন বাংলাদেশের পক্ষে রেকর্ড ৫৮টি টেস্ট খেলা মুশফিক, ‘কয়েক বছর ধরে আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি। এই দুই ম্যাচে হয়তো ভালো করতে পারিনি। কিন্তু আমিও তো মানুষ, আমারও ভুল হতে পারে। সুযোগ পেলে চেষ্টা করবো যেসব ভুল করেছি সেগুলো শোধরানোর।’

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/০৯অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ