প্রতারিত হয়ে নির্যাতনের শিকার কিশোরগঞ্জের বাবলু মিয়া

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক ।। প্রতারিত হয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিশোরগঞ্জের কিশোর বাবলু মিয়া। প্রতারণার কবলে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন কিশোরগঞ্জের বাবলু মিয়া নামের এক কিশোর। শুধু প্রতারণা করেই থেমে থাকেনি প্রতারকচক্র। ওই কিশোরের ওপর চালিয়েছে অমানষিক নির্যাতনও। শরীরের বিভিন্ন স্থানে শারিরিকভাবে প্রহর করে জখমও করেছে প্রতারকচক্ররা। কৌশলে তাদের থেকে ফিরে এসে কান্না জড়িত কন্ঠে সোমবার সাংবাদিকদেরকে এভাবেই বলছিলেন জেলা সদরের রশিদাবাদ ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের মৎস্যজীবী শামসুদ্দীনের পুত্র মো.বাবলু মিয়া। তিনি বলেন, চলতি বছরের গেল মাসের ৯ তারিখে আমার প্রতিবেশী সাদুল্লাচর গ্রামের মৌমিন নামের এক ব্যক্তি আমাকে লোভনীয় চাকুরীর অফার দেয়। প্রথমে আমার এক বন্ধু রিয়াদের মাধ্যমে প্রস্তাব দেয় বেকারত্ব দুরীকরণের জন্য এ চাকুরীতে যোগ দেওয়ার জন্য। কথামত চাকুরীর জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত হিসেবে দিলে মৌমিন গাজীপুর চৌরাস্তা সংলগ্ন বোর্ড বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ লাইফওয়ে প্রাইভেট লি. অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে মৌখিক নিয়োগ দেয়। প্রকৃতপক্ষে তাকে কোন নিয়োগ দেয়নি বরং চাকুরীর জন্য ৩০ হাজার টাকা ও আরও দুজন লোককে নেওয়ার জন্য একটি মুচলেকা নেয়। বাবলু মিয়া কোম্পানীতে আর লোকজন না নিতে পারায় তাকে প্রায় সময়ই চাপ প্রয়োগ ও মানষিকভাবে হয়রানী করতো। এভাবে বাবলু মিয়া কিছুদিন চাকুরী করার ফলে বুঝতে পারে এটা কোন টাকুরী নয় তার। সে দেখতে পায় ওঠতি বয়সীদের চাকুরী দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায় করে যাচ্ছে তারা। বিষয়টি জানতে পেরে সেখান থেকে সে বেড়িয়ে আসতে চাইলে গৃহবন্দি করে রাখে তাকে ওই প্রতারকচক্ররা। এমনকি তাকে অনেক মারপিট করে। ব্যথায় সে যখন অস্থির প্রতিসেবকের জন্য একটু ওষধও দেয়নি । তারা তাকে এমন বেদমভাবে পিটিয়ে বলে যে মারপিটের কথা যেন অন্য চাকুরীপ্রার্থীরা না জানে তবে তারাও চলে যাবে। এ জন্য তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়। শুক্রবার থাকায় সবাই যখন জুম্মার নামাজে চলে যায় সে অসুস্থতায় বাসায় থেকে যায়। বিষয়টি অন্যরা জেনে দুজনকে তার প্রহরায় রেখে দেয়,যাতে সে পালিয়েও না যেতে পারে। এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর ওই দুজন ঘুমিয়ে গেলে বাবলু মিয়া দেয়াল টপকিয়ে বেরিয়ে আসে। অনেক কষ্টে বাসে করে সে শনিবার দিন বাড়িতে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয় এবং পরিবারের কাছে ঘটনাটি খোলে বলে। পরিবারের লোকজন প্রতারক মৌমিনের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টির প্রতিবাদ করে নালিশ দিলেও কোন প্রতিকার পেল না ওই কিশোরটি। এ বিষয়ে গাজীপুরের বাংলাদেশ লাইফওয়ে প্রাইভেট লি. কোম্পানীতে কর্মরত মৌমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান,আমাদের কোম্পানীতে তাঁর চাকুরী করার ইচ্ছে নেই ফলে সে পালিয়ে গেছে। তবে মারধরের বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে সে বেশি কথা না বাড়িয়ে বলে বিস্তারিত জানতে হলে আমাদের কোপ¥নীর সুপার ভাইজার সোহেল রানার সাথে কথা বলুন স্যারই সব বলতে পারবেন বলে জানান। পরে সুপারভাইজারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,আমাদের এটি একটি এমএলএম প্রতিষ্ঠান। এখানে কাউকে চাকুরী দেওয়া হয় না। তবে পণ্য যে বেশি ক্রয় বিক্রয় ও কর্মসংস্থানের জন্য লোক সংগ্রহ করবে তাকে নির্ধারিত বেতন দেওয়া হয়। বাবলুকে শারিরিকভাবে নির্যাতনের কথা জানতে চাইলে অস্বীকার করেন এবং প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কোন অভিযোগ থাকলে সেখানে যেতে বলেন।
এ বিষয়ে বাবলু মিয়ার মাতা অনুফা খাতুন বলেন, বাবা আমার স্বামী একজন মৎস্যজীবী মানুষ। অনেক কষ্টে ধার করে ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে সুখের আশায় চাকুরীর জন্য দিয়েছিলাম। কিন্ত ছেলের চাকুরী তো হলই না বরং শারিরিকভাবে প্রহার করে ছেলেটিকে অনেক নির্যাতন করেছে ওই প্রতারকচক্ররা। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

 

 

 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ