‘সহায়ক’ সরকারের দাবি তুলবে বিএনপি

ইসির সঙ্গে সংলাপের খসড়া প্রস্তুত

রাজনৈতিক রিপোর্ট : আগামী সপ্তাহে (১৫ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এই সংলাপের জন্য প্রস্তাবনার খসড়া চূড়ান্ত করেছে তারা। এতে তারা নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক’ সরকারের দাবি তুলবে। সমপ্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সিনিয়র নেতারা চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠকে ইসির সঙ্গে সংলাপের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন।
নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য ১০টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করেছে দলটি। সংলাপকালে লিখিতভাবে এগুলো তুলে ধরবে তারা। খসড়া প্রস্তাবগুলো লন্ডনে অবস্থানরত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তা অনুমোদন পেয়েছে।
দলের একজন সিনিয়র নেতা জানান, খালেদা জিয়ার নির্দেশনার আলোকেই প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। ইসির সঙ্গে সংলাপ শেষে প্রস্তাবগুলো সংবাদ সম্মেলন করে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ইসির সঙ্গে সংলাপের চেয়ে নির্বাচনকালীন ‘সহায়ক সরকার’ গঠনে সরকারের সঙ্গে সংলাপ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তারপরও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে চাই। আমরা যে প্রস্তাবগুলো তৈরি করেছি তা বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন, নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, আরপিওর বিভিন্ন ধারা সংশোধন, আসন পুনর্বিন্যাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব দেয়া হবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবনায় এখন ভোটার  অনুপাতে সীমানা পুনর্বিন্যাস কিংবা ২০০৮ সালের আগের পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিতে জোর দেয়া হয়েছে।
বিএনপি আরো যেসব দাবি তুলবে তার মধ্যে রয়েছে- সবপর্যায়ের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে, রাজনৈতিক দলের প্রতি প্রকাশ্য আনুগত্য পোষণকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী দায়িত্বপালন হতে বিরত রাখতে হবে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় মাঠপর্যায়ে কর্মরত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের এবং প্রত্যেক উপজেলা এবং থানায় কর্মরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ওসিদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ইসি। এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের সব কেন্দে  উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার, নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করতে হবে প্রভৃতি।
প্রসঙ্গত যে, গত ১৬ জুলাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-সংক্রান্ত রোডম্যাপ প্রকাশের পর ৩০ জুলাই প্রথম ধাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, দ্বিতীয় ধাপে ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ করেছে নির্বাচন কমিশন। তৃতীয় ধাপে ২৪ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়। ১৫ অক্টোবর বিএনপি ও ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসি সংলাপ করবে।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ