বগুড়ায় মরিচের বাম্পার ফলন, বাজারে আগুন

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
অক্টোবর ১৬, ২০১৭ ৩:৩০ অপরাহ্ণ

বগুড়া, জেলা প্রতিবেদক : এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে ভালো দাম পেয়ে খুশি হয়েছেন কৃষকেরা। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে মরিচ চাষ। ফলে চাষিদের ভাগ্যের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম ও কৃষি অফিসের সঠিক দিক নির্দেশনায় মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শতাধিক চাষি। তবে এবার মরিচের ফলন দ্বিগুন হলেও মরিচের বাজারে যেন আগুন লেগেছে।

বিপাকে পড়েছেন সাধারন ক্রেতারা। হাট-বাজারে প্রতিকেজি মরিচের দাম ১৪০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় করছেন ব্যবসায়ীরা। বেড়েই চলেছে মরিচের দাম।

সূত্রমতে, বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভা সহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ২০১৭/১৮ অর্থবছরে মাত্র ৫ (পাঁচ) হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি বিভাগ। সেখানে ১৪০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা মুশিদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতবারের তুলনায় এবার মরিচ চাষ দ্বিগুনভাবে বেড়েছে। এউপজেলার কৃষকেরা ধান চাষের পাশাপাশি সবজি চাষে বেশ আগ্রহী। পরিশ্রম সৌভাগ্যের চাবিকাঠি’ মরিচ চাষের মাধ্যমে কথাটির প্রমাণ করেছেন কৃৃষকেরা। উপজেলার সিংজানী গ্রামের মরিচ চাষি সূর্য চন্দ্র, ভুলু হাজী, মজনু মিয়া, মুকুল হোসেন, কাথম গ্রামের আব্দুল মতিন, বাদালাশন গ্রামের জামিল হোসেন ও রিধইল গ্রামের আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, গত বছরের চেয়ে এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে বাজারে মরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মন ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা। ধান চাষের চেয়ে মরিচ চাষ করা অনেক ভালো। পরিশ্রম কম, লাভও বেশি পাওয়া যায়।

এদিকে, মরিচ চাষিরা সুদিনের পথে ফিরছে। মরিচ চাষ করে নিজেদের লক্ষ্য পুুরনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।

তারা জানান, আষাড় মাসের প্রথম সপ্তাহে মরিচ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করার সময় ইউরিয়া সার, টিএসপি, পটাশ, জিপসাম ও জৈবসার নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। পরে মরিচের চারাগুলো ধীরে-ধীরে জমির ভিতরে সারিবদ্ধভাবে রোপন করাসহ মরিচের গাছগুলো বেড়ে উঠার সাথে সাথে প্রতিটা গাছে বাঁশ দিয়ে বেধে দিতে হয়। বর্তমানে পুুরোদমে মরিচ উঠা শুরু করেছে। সেই মরিচ হাট-বাজারে পাইকারি বিক্রয় হচ্ছে প্রদিকেজি ১৪০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে। মুরিচের বাম্পার ফলন ও বাজারে দিগুন দাম পেয়ে কৃষকেরা খুশি। তবে রোববার কুন্দারহাটে গিয়ে কথা হয় ক্রেতাদের সাথে। হোমিও ডাক্তার গোলাম মোস্তফা বলেন, বাজারে মরিচের দাম যেন আকাশছোঁয়া। নিত্যপন্যের বাজারে দিনদিন দাম বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে কাচা মরিচের বাজারে আগুন লেগেছে। এনিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিন্ম আয়ের মানুষ।

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা মুশিদুল হক জানান, কৃষি অফিসের তৎপরতায় ও দিকনির্দেশনায় কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হয়ে লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে মরিচ চাষ কেেছন। মরিচ চাষে আগ্রহ বেড়েছে। মরিচ ক্ষেতগুলোতে যেনো কোন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি না হয়, সেজন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৬-অক্টোবর২০১৭ইং/নোমান

Leave A Reply

Your email address will not be published.

সর্বশেষ পাওয়া