সৌদি আরবের ভিতর আরেক বাংলাদেশ !

ছাইদুর রহমান নাঈম, সৌদি আরব প্রতিনিধি ।। ভাই এদিকে আসেন? কি লাগব লন। ছোট ছোট গলিতে মানুষের জটলা। সবাই কেনা কাটা করছে তাদের মাঝে সিংহ ভাগই বাংলাদেশী। ভিনদেশের মাটিতে এমন চিএ দেখে ভাবনা চলে আসে যে বাংলাদেশের ঢাকার গুলিস্থান চলে আসলাম না কি!। একটু পরে বুঝবেন না ঠিকই আছেন, তবে, ঢাকা নয় সৌদিতেই। এতক্ষন যা বলছি তা হল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাতাহ্ বাজারের কথা।

রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকানে পশরা সাজিয়ে বসে আছে বাংলাদেশী দোকানীরা। শাক,সবজি,আলু,টমেটু,লাউ সহ সকল ধরনের সবজির এ যেন বিপুল সমাহার। কি নেই এখানে? গোস্তের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের মিঠা পানির রুই, কাতল, বোয়াল, চিতল, ইলিশ, চিংড়ি,বাইম,সহ না না রকমের মাছের বাজার। সেই সাথে আছে না না রকম চেপা, শুটকি মাছ। চোল কাটার শেলুন সহ রকমারি সকল তৈজস পএ। এসব দেখে মনে হয় এ যেন আরেক বাংলাদেশ। বাজারে আগতদের খাবারের জন্য রয়েছে বাংলাদেশী হোটেল। সেই সব হোটেলে দেশী সকল রকমের খাবার পাওয়া যায়। তবে এই বাংলা বাজারে বাংলাদেশী লোকজনের পাশা পাশি ভারত,ফিলিপাইন,পাকিস্তান সহ সব দেশের লোকজন বাংলাদেশী পণ্য কিনছে।

বাজারের কয়েক জন বাংলাদেশীর সাথে কথা হয় তাদের মধ্যে কুমিল্লার আব্দুল বাতেন (৫৬) ময়মনসিংহের ফজলুর রহমান (৩৪)  বলেন, আমরা অনেক বছর ধরেই এই বাজার থেকেই সব রকমের কেনা কাটা করি। এখানে দেশের সকল জিনিস পাওয়া যায়।

রাসেল মিয়া, বাবু, আজিজ সহ কয়কজন যুবক  বলেন, মুলত এখানে আসলে দেশের মানুষ দেখি মনের মঝে একটা আনন্দ পাই। আমরা অনেক দুর থেকে মাস দুয়েক পর পর এসে বাজার করে নিয়ে থাকি। বাজারে সবার দোকানের উপরে বাংলায় লিখা সাইন বোড ও লাগানো দেখা যায়।

বাজারটিতে অনেক দিন যাবত ব্যবসা করেন হাজী ফজলু মিয়া, তিনি বলেন, বেচা কেনা ভলই চলছে তবে আগের চেয়ে একটু কমে গেছে। বাংলাদেশী শবজির কদর রয়েছে এখানে। রপ্তানি বাড়াতে পারলে সৌদিতে ভারতকে পিছনে ফেলে সবজি,মাছ,মশলার বাজার বাংলাদেশ দখল করে নিতে পারবে বলে তিনি যোগ করেন।

মাছের ব্যবসায়ী সবুজ হালিম মিলন বলেন, সৌদিতে বাংলাদেশের মাছের চাহিদা  রয়েছে তবে আমদানী কম। এ বিষয়ে সরকারকে নজর দিতে হবে বলেও তিনি মনে করেন।

Comments are closed.