অতিথি পাখির কলতানে মুখর কিশোরগঞ্জের হাওর

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ।। অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের হাওর বিস্তৃত উপজেলাগুলো। হাওরজুড়ে অতিথি পাখিদের দলবদ্ধভাবে বিচরণের এমন দৃশ্য সহজেই আকৃষ্ট করছে আগত প্রকৃতিপ্রেমিদের।

চলতি বছর এরই মধ্যে লাখো লাখো পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে মিঠামইনের মিঠামইন হাওর,বড় হাওর,অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়া হাওর,ইটনার বাদলা হাওর,নিকলীর ছাতিরচর হাওরসহ পাশ্ববর্তী হাওরগুলোতে।

দিনের আলোয় অতিথি পাখিরা হাওরের জলে ভেসে বেড়ালেও রাতে আশ্রয় নেয় হাওরের হিজল গাছসহ বিভিন্ন বাড়ির আঙ্গিনার গাছপালায়। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনঃরায় খাবারে সন্ধানে বিভিন্ন হাওরে ভিড় জমায় তারা। বাহারি রংয়ের এসব অতিথি পাখিদের এই মুহুর্মুহু কলতানের টানে প্রতিদিনই হাওরে দূরদূরান্ত থেকে অনেক প্রকৃতিপ্রেমী ভিড় জমান।

প্রতিবছর নভেম্বর মাসের শুরুতে সুদূর সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া,নেপালসহ শীতপ্রধান বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে ছুটে আসে এসব অতিথি পাখি। শীতের তীব্রতা থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে নানা প্রজাতির এসব অতিথি পাখি এসে দেশের হাতেগোনা কয়েকটি স্থানে ক্ষণস্থায়ী আবাস গড়ে। তারমধ্যে অন্যতম হাওরবেষ্টিত কিশোরগঞ্জ জেলা।

শীতের তীব্রতা কমে আসতে থাকলে ফের ডানায় ভর করে ফিরে যায় নিজ গন্তব্যে। আগত পাখিদের মধ্যে কাইম,লেনজা,কালাকোড়া, পিয়ারী, পিংহাঁস,বালিহাঁস,গঙ্গাকবুতর, পাতিসরালি,জলময়ুর, ধসরবক,সাদাবক,ডুবুরি, জোবক ও পানকৌড়ি অন্যতম।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠকে জানান, অতিথি পাখি নিধনের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। হাওরের সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ