এগিয়ে আছে নারী শিক্ষার্থীরা : হাওড়ে শিক্ষার আলোয় এগিয়ে যাচ্ছে রোটারী ডিগ্রী কলেজ

Muktijoddhar Kantho , Muktijoddhar Kantho
নভেম্বর ১০, ২০১৭ ৩:২০ অপরাহ্ণ

মন্তোষ চক্রবর্তী, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভিত হাওড় উপজেলা অষ্টগ্রাম এখন আর উচ্চ শিক্ষায় পিছিয়ে নেই। এক সময়ের শিক্ষা ও যোগাযোগ পশ্চাদপদ এই উপজেলা এখন সর্বক্ষেত্রে অগ্রগামী। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এই উপজেলায় একমাত্র রোটারী ডিগ্রী কলেজ জনজীবনে পরিবর্তন সৃষ্টি করছে। নারী শিক্ষায় এই কলেজটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুধু কিশোরগঞ্জ জেলা নয় জাতীয় পর্যায়ে অন্যান্য দৃষ্টান্ত এ কলেজের ছাত্র ছাত্রী। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সারা দেশে শিক্ষার দৃষ্টান্ত ও স্থাপন করছে। মহামান্য
রাষ্ট্রপতি জীবনে একপর্যায়ে জাতীয় সংসদ সদস্য থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে নিরক্ষর জন মানুষের এই উপজেলায় পরিবর্তন সৃষ্টি করার মহান প্রয়াস বাস্তবে বাস্তবায়ন করছেন। শুধু দেশেই নন এ কলেজ প্রতিষ্ঠা থেকে বিদেশী দানবীর এবং দেশের অগণিত শিক্ষাব্রতী কাজ করে যাচ্ছে। কলেজটি স্থাপিত হয় ১৯৯১ সালে।

সূত্র জানায়, এক সময় শতকরা ৯ ভাগ শিক্ষিত শ্রমজীবি খেটে খাওয়া জন মানুষের এই উপজেলার আয়তন ৭৪ হাজার ২৪০ একর জনসংখ্যা নারী- পুরুষ মিলে ১লক্ষ ৫২ হাজার ৫২৩ জন। মোট ভূমি ৭০ ভাগ আবাদী এবং ৩০ ভাগ নদী বিল ও অনাবাদী ভূমি বিরাজ করছে। আবাদী ভূমির ৮০ ভাগের মালিক শতকরা ১৪ ভাগ জোতদার ২০ ভাগ মাঝারী কৃষক বর্গাচাষী। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক কাজ করছে। এছাড়াও উৎপাদিত ফসলের মধ্যে একমাত্র বোরো ফসল ই প্রধান। উৎপাদিত বোরো ধানের ২০ ভাগ স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। বাকি ৮০ ভাগ ধান একদিকে জাতীয় খাদ্য ভান্ডারে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে জন জীবনের নিত্য ব্যয়ভার চালানো হচ্ছে। এক দু বছর পর পরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ফলে এবং সারা বর্ষার কোন কর্মসংস্থান না থাকায় এই উপজেলায় সংখ্যাগরিষ্ট দরিদ্র শ্রমজীবি ও শিক্ষার পশ্চাপদ ছিল। স্বাধীনতার পর ক্রমগত জনজীবনে অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হতে থাকে এবং শিক্ষায় এগিয়ে আসে। ১৯৯৩ সালের ১ম দিকে রোটারী ইন্টার ন্যাশনাল গর্ভনর অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক পি.ডি.জি.জেক নাল কারভিজ অষ্টগ্রামে আসে এবং এ কলেজটি উচচ শিক্ষার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহন করে এবং কলেজটি উন্নয়নের জন্য তৎকালিন লক্ষাধিক টাকা দান করেন। সুধি সমাজ থেকে কলেজ গঠনে একটি কমিটি গঠন করেন। তৎকালীন ইউএনও আবুল কাশেম বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেন। বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামকে অধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহন করে। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজের অধ্যাপক মরহুম কাজী আব্দুল মোমেন অধ্যক্ষ নির্ধারিত হয়। পরে কলেজটি জাতীয় সংসদের তদানিৎ ডেপুটি স্পীকার হুমায়ুন খান পন্নী কলেজের শুভ উদ্ধোবন করেন। তখন কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় অর্ধ শতাধিক। পরবর্তীতে একসময়ের তুখোর ছাত্রনেতা মোজতাবা আরিফ খান অধ্যক্ষ দায়িত্বভার গ্রহন করে এবং রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেন, গড়ে উঠে একাডেমিক ভবন সহ একাধিক প্রাসাদ। পরিবর্তনের ছোয়ায় সর্বত্র এসে নতুনত্ব সৃষ্টি করে। কলেজে গড়ে তুলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এর মুর‌্যাল। কলেজ ক্যাম্পাসে চতুরদিকে প্রাচীর ও দৃষ্টিনন্ধন ফুলের বাগান। বর্তমানে শিক্ষাদানে এ কলেজে অনন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমানে এ কলেজে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১২৪জন।

এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ মোজতাবা আরিফ খান জানান, আমি মনে করি শিক্ষাক্ষেত্রে সঠিক তদারকি ও সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার উপরে নির্ভর করে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও জানান ভৌগলিক পরিবেশ. সামাজিক পরিবেশ, সাংস্কৃতিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক অবস্থা সবকিছুই চিন্তা করে ও সরকার, শিক্ষক, অভিভাবকের সহযোগিতায় আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো জানান এ কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী আলহাজ্ব এমদাদুল হক।

এ ব্যাপারে এ কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দা নাছিমা আক্তার জানান অধ্যক্ষের কঠোর পরিশ্রম ও শিক্ষকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় নারী শিক্ষায় এই কলেজটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, বর্তমানে এ কলেজের নারী শিক্ষার্থী প্রায় ৬৬ভাগ এবং বি. এ. সি. ও বি.কম যদি চালু করা যেত তাহলে আরও ভাল হত। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপ-সচিব তরফদার মোঃ আক্তার জামীল জানান, এ কলেজের শিক্ষার মান আরও উন্নয়নে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১০-নভেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments are closed.