স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে দাড়ি : মাওলানা আরিফুল কাদের

ইসলামের কথা ।। আল্লাহ পাক পৃথিবীতে ১৮০০০ মাখলুক সুষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো মানুষ। কোরআনের ভাষায় বলা হয়- “অবশ্যই আমি (আল্লাহ) মানুষকে উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছি”। অতপর এই উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করার মুখ্যম উদ্দেশ্য আল্লাহর দাসত্ব বা গোলামী করে তাঁকে রাজি খুশি করার মাধ্যমে তাঁর অশেষ নিয়ামত জান্নাত লাভ করা। কোরআনের ভাষায়- “আমি মানুষ ও জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি কেবল আমার ইবাদত তথা দাসত্ব বা গোলামী করার জন্য”। এই দাসত্ব করার নিয়ম নীতি যুগে যুগে নবী রাসুল (আঃ) প্রেরণের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। এমনিভাবে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে প্রেরণের মাধ্যমে এ শিক্ষা পদ্ধতির পরিপূর্ন করে দিয়েছেন। কোন পথে চললে রয়েছে মানুষের জন্য মঙ্গল এবং কোন পথে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকতে পারে তাও তিনি শিখিয়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে বলা যায়- আল্লাহ কখনো মানুষের অমঙ্গল কামনা করেন না। বরং সর্বদা মানুষের উপকারে বিভিন্ন মাখলুককে নিয়োজিত করে রেখেছেন। উদাহরণ স্বরুপ বলতে পারি- পৃথিবীতে যত প্রকার ইলেকট্রিক কোম্পানী রয়েছে তারা চায় সর্বদা তাদের প্রোডাক্ট গুনগত মানের বা ত্রুটি মুক্ত হউক। কোন কোম্পানী চায়না তাদের পন্যের মান নষ্ট করে ক্রেতাদের ক্ষেভের সৃষ্টি হউক। তাইতো সব কোম্পানীই নিজস্ব গ্রাহক সেবা কেন্দ্রের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। যেন গ্রাহকদের সেবার মাধ্যমে সারা বিশ্বে তাদের প্রচার-প্রসার বেরে যায়। ঠিক তদ্রুপভাবে আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন গুনগত মানের। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে বিভিন্ন পাপে লিপ্ত হওয়ায় তাদের শারীরিক ও মানসিক সহ নানান ধরনের ব্যাধির ঘটনা ঘটে। তাই এইসব রোগ, বালা-মুছিবত ও ব্যধি থেকে সুস্থতা তথা ওয়ারেন্টির জন্য পাঠিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মহা মানব বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স) কে। যার আগমনে মানুষ জাতি পেয়েছে সুস্থজীবন, সুস্থমনসহ নানান ধরণের প্রশান্তি। এর জন্য মুসলিমসহ সমগ্র মানব জাতির জন্য থাকতে হবে ধৈর্য্য। কেননা ধৈর্য্যরে ফলতো সুমিস্ট হয়! আর এই ধৈর্য্যরে জন্য পাবে সমগ্র জাতি নিজস্ব সুস্থ জীবন সহ পরকালীন মুক্তির পথ। তাইতো বিজ্ঞ আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখগন বিশ্লেষণ করে বলেছেন যে, বিশ্বনবীর (স) প্রতিটি সুন্নতই বিজ্ঞান সম্মত মানুষের স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারী। অগণিত সুন্নাতের মধ্যে তাঁর একটি সুন্নাত হলো পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা। যা উপকারে আসে বটে লজ্জার কোন সম্ভাবনা ১০০% নেই। মানুষ যদি তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য নোংঢ়া কাজ-খাবার গ্রহন করতে পারে। তাহলে পুরুষ জাতির সুস্থতার জন্য মহা মূল্যবান সুন্নাত তথা দাড়ি রাখতে কষ্টের কি আছে? যেমন, মানুষ কোটিপতি কিংবা বড়লোক হওয়ার জন্য সুদ-ঘোষ আদান প্রদান করে থাকে। যার পাপ মহানবী (স) নির্ণয় করে গেছেন ৪০টি কবিরা গোনাহ। তন্মধ্যে সবচেয়ে ছোট গোনাহ হলো আপন মায়ের সাথে অবৈধ সহবাস (যিনা করা)। এছাড়াও এই্ সংক্ষিপ্ত পাপগুলি ছাড়াও আমরা আরো কোটি কোটি পাপের কথা আমরা শুনে থাকি। তাতে যদি মানুষ জাতি লজ্জা বোধ করতে না পারে তাহলে, তাহলে মহা উপকারী জিনিস দাড়ি রাখতে লজ্জা বা কষ্ট কিসের??? ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এর বহু উপকারিতা রয়েছে। তেমনি বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরুষ জাতির দাড়ি রাখার উপকার বিদ্যমান। যা প্রকাশ পেয়েছে ০৪/১১/২০১৭ ইং সনের ৩:৩১ অপরাহ্ণ poriborton.com এর কলামে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

আজকাল অনেকে ফ্যাশন করে দাড়ি রাখেন। নিজের ইচ্ছামতো স্টাইল করে ফ্যাশনেবল লুকে আসতে মুখের সাথে মানানসই দাড়ি রাখা সব সবচাইতে ভাল আইডিয়া। কিন্তু আপনি জানে কি, দাড়ি রাখা শুধু ফ্যাশানের সাথে যুক্ত নয় এটি যুক্ত আপনার স্বাস্থ্যের সাথেও। পুরুষের দাড়ি রাখা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ভালো। জানতে চান কি কারণে? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক দাড়ি রাখার স্বাস্থ্যকর দিকগুলো। প্রেমিকের দাড়ি দেখে মেয়েদের রাগ করার দিন এবার সত্যিই ফুরালো।

ত্বকে রসের ছাপ ধীরে পড়েঃ-

যারা দাড়ি রাখেন তাদের ত্বকে বয়সের চাপ ধীরে পড়ে। ডার্মাটোলজিস্ট ডঃ অ্যাডাম ফ্রাইডম্যান বলেন, ‘মুখের ত্বক দাড়ি দিয়ে ঢাকা থাকার কারণে ফলে সূর্যের আলোর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়। এতে ত্বকের ক্ষতি কম হয়, রিংকেল পড়ে অনেক দেরিতে। সুতরাং ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেরি হয়।

স্কিন ক্যান্সারের ঝুকি কমায়ঃ-

সরাসরি রোদ ত্বকে লাগা, শেভ করার সময় ও শেভ করার পর নানা ধরণের কেমিক্যাল জাতীয় প্রোডাক্ট ব্যবহার করা ইত্যাদি স্কিন ক্যান্সারের ঝুকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। তাই পুরুষদের ক্ষেত্রে ডার্মাটোলজিস্টগণ স্কিন ক্যান্সার থেকে রক্ষা পেতে দাড়ি রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

অ্যালার্জি থেকে দূরে রাখেঃ-

পুরুষের মধ্যে যাদের ধুলো ময়লা এবং রোদে অ্যালার্জি রয়েছে তাদের জন্য দাড়ি রাখা অনেক উপকারি। এতে করে মুখের ত্বক সরাসরি ধুলো-বালি এবং রোদের সংস্পর্শে আসেনা। সুতরাং অ্যালার্জি সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ব্রণের ঝামেলা থেকে মক্তিঃ-

পুরুষের ত্বকেও ব্রণ উঠে থাকে। শেভ করার প্রোডাক্ট ও ধুলো-বালি এ সমস্যা আরো বাড়িয়ে তুলে। যারা দাড়ি রাখেন তারা নিয়মিত দাড়ির যতœ নিলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন খুব সহজেই।

অ্যাজমার প্রকোপ কমায়ঃ-

গবেষণায় দেখা যায় দাড়ি রাখা নাকে মুখে ক্ষতিকর ধুলো-বালি ঢুকতে বাধা প্রদান করে। ফলে ডাস্ট মাইট যার ফলে এ্যাজমার প্রকোপ বৃদ্ধি পায় তা অনেকাংশে কমে আসে। এতে করে অ্যাজমা সংক্রান্ত ঝামেলা থেকেও মুক্ত থাকা সম্ভব।

সুত্র: এমসিডিসি/ইসি

Comments are closed.