করিমগঞ্জের গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল

আমিনুল হক সাদী, নিজস্ব প্রতিবেদক ।। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গণ হত্যা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে করিমগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে শনিবার আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। উপজেলার কলেজ মোড় স্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ আবুল মনসুর লনু। প্রধান আলোচক ছিলেন করিমগঞ্জ বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ইকবাল।

করিমগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও কিশোরগঞ্জ যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলন কমিটির সভাপতি মো.রেজাউল হাবীব রেজার পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক সাদী, করিমগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমিটির যুগ্ন আহবায়ক জামিল আনসারী,শহীদ আব্দুল গফুরের ভাতিজা সাবেক কাউন্সিলর মো.আনিসুর রহমান,মো.মবিন মিয়া.মো.আব্দুর রাজ্জাক, মো.জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলে, একাত্তরের ১১.১২.১৩ ও ১৪ নভেম্বরের মধ্যে করিমগঞ্জের বেশিরভাগ হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছিল স্থানীয় রাজাকার ও পাক হানাদাররা। সবচে বেশি সংখ্যক নিরীহ মানুষ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিল আয়লা,বিদ্যানগর ও বাহাদুরপুর গ্রামে। আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্্রাইবুন্যালের স্বাক্ষীদের তথ্যানুযায়ী একাত্তরের ১২ নভেম্বর রাজাকার কমান্ডার গাজী মান্নান, সাব কমান্ডার এটিএম নাছির উদ্দিন ও তারই সহোদর এটিএম শামসুদ্দিন একাত্তরের ১২ নভেম্বর এতদা লে ৬০/৭০ জনের রাজাকারের দল নিয়ে মিয়া হোসেন, আব্দুল মজিদ,আ.জব্বার,হাবিবুল্লাহ,আ.বারেক.ছান্দু শেখ,মালু শেখ, সিরাজ উদ্দিন ও আফতাব উদ্দিনসহ অনেককেই নির্মমভাবে হত্যা করে। আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইবুন্যাল ১২ নভেম্বর তারিখটি আইনত নির্ধারিত করে, সেই অনুযায়ী বিচারের রায় প্রদান করে। এ জন্য ১২ নভেম্বর তারিখটি করিমগঞ্জের গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ইতোপুর্বে ২০ নভেম্বর করিমগঞ্জের গণহত্যা দিবস হিসেবে যারা এ তারিখটি নির্ধারন করেছেন তারা হয়তো একটি বইয়ের অনুস্মরণ করে তা করেছেন বলে মনে করেন বক্তারা। সভায় তাদেরকেও সাধুবাদ জানানো হয়।

বক্তারা আরও বলেন, কোন ঘটনার স্মৃতিচারণ যদি নির্দিষ্ট সময়ে করা যেতে না পারে তাহলে তা পরবর্তী কোন তারিখে করলে দোষ হবে না বলে উল্লেখ করা হয়। তবে পরবর্তী তারিখের স্মৃতিচারণ সভায় যদি ১২ নভেম্বরর কথা উল্লেখ থাকে এবং এ তারিখকে ঘিরেই স্মৃতিচারণ করা হয় তাহলে তাতে কোন স্খলন ঘটবে না বলে মনে করেন তারা।

আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবুন্যালের তদন্ত অফিসার এএসপি মো.আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একাত্তরের ১২ নভেম্বরই ছিল এতদ লের গণহত্যা দিবস। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের চার জন রাজাকারের ফাঁসি ও একজন রাজাকারের আমৃত্যু কারাদন্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একজন মারা গেছে, দু‘জন জেল হাজতে আছে ও বাকী দুজন পলাতক রয়েছে।

 

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ