কঠোর মায়েদের সন্তানেরাই ভবিষ্যতে সফলতারমুকুট পরিধান করে!

লাইফ স্টাইল রিপোর্ট : মা-হলেন সন্তানের মমতার সুশীতল স্নিগ্ধ ছায়া। যে মানুষটিতার জীবনের অনেক সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে সন্তানকে আগলে রেখে লালন পালন করেন, তাদের বড় করে তোলেন, সন্তানকে নিয়ে সবসময় স্বপ্ন দেখেন, সন্তানের শুভ কামনা করেন তিনিই হলেন মা।

মা হলো শিশুর প্রথম শিক্ষক। তিনি সন্তানকে লালন-পালন করে বড় করে তোলেন। প্রকৃতিগতভাবেই মা এই কাজ করেন। মায়ের কাছে এই আগ্রহটা জাগে তার শিশু সন্তানের প্রতি গভীর ভালবাসা থেকে। সন্তান সারা জীবন সুখী, সুস্থ আর সফল হোক এটাই সব মায়ের আকাঙ্ক্ষা।

জীবন চলার পথের সকল ক্লান্তি, সমস্যা আর চিন্তার সবকিছুই মায়ের স্নেহ ভরা মমতা মাখা। অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যত নিয়ে মা বাবার ধৈর্য ও সহ্য ক্ষমতা শক্ত ছিলো বলেই হয়তো আজ আপনি বর্তমানে একটি ভালো অবস্থানে আছেন। আপনার জীবনের সাফল্যের পেছনে একমাত্র তাদেরই অবদান।

আপনার বেড়ে ওঠার বয়সে বাবা-মা কী খুব কঠোর ছিলেন? তারা কিআপনাকে ঘর পরিষ্কার করতে, বাড়ির কাজ করতে এবং প্রতিনিয়তভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে বলতেন? আমাদের মধ্যে বেশিরভাগসন্তানই এমন পরিবারে বড় হয়েছি যেখানে মায়েরা ছিলেনআমাদের ‘চিরশত্রু’!

নিত্যদিন পেছনে লেগে থাকা এবং বলে বলে কাজ করানোর জন্যহয়তো আপনার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিলো। কিন্তু আপনি কিজানেন? অতীতের কিংবা শৈশবের কথা একটু মনে করুন তো,আপনার মা কেমন ব্যবহার করতেন আপনার সঙ্গে? এ গবেষণারব্যাপারেই বা আপনি কী মনে করেন?

গবেষকদের মতে, কঠোর মায়েদের সন্তানেরাই ভবিষ্যতে সফলতারমুকুট পরিধান করতে সমর্থ হয়।

সুতরাং তখন অসহ্য মনে হলেও ভবিষ্যতে আপনি আপনার মা-কে বারংবার ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। কিন্তু আপনি-আমি সকলেই জানি যে বাবা-মায়ের ঋণ কখনোই শোধ হবার নয়।

ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের একজন অধ্যাপক এরিকা র‍্যাসকন একটিগবেষণা চালিয়েছেন যেখানে প্রমাণিত হয়েছে যে কঠোর মায়েদেরসন্তানের জীবন সাফল্যে পরিপূর্ণ এবং সে সকল মা তাদের সন্তানদেরশৈশবে শাসন করেছিলেন।

উক্ত গবেষণা চালানো হয় ২০০৪ থেকে ২০১০ সালের ভেতর; ১৫০০০এর অধিক বাচ্চাদের ওপর, যাদের বয়সসীমা ছিলো ১৩-১৪ বছর।

র‍্যাসকনের মতে, শৈশব থেকেই সন্তানের পড়াশোনার ব্যাপারেপিতা-মাতার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাস তাদেরকে খ্যাতির চূড়ান্ত পর্যায়েনিয়ে যেতে সাহায্য করে। আমাদের গবেষণা এটিই প্রমাণ করেছে। যে সকল বাচ্চার মায়েদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিলো তারা বর্তমানে অধিকআত্মবিশ্বাসী এবং নিরাপদ।

গবেষণায় এটিও প্রমাণিত হয়, যে সকল মেয়ের মায়েরা অতিরিক্তকঠোর ছিলেন তাদের মধ্যে অল্প বয়সে মা হবার প্রবণতা শতকরা চারভাগ কম।

শক্ত ও রাগী মায়েদের সন্তানেরা দ্রুত গ্র্যাজুয়েট হতে পেরেছে এবংভালো চাকরিও পেয়েছে। এটা শুনতে অবিশ্বাস্য ও হাস্যকর মনে হতেপারে, কিন্তু ঘটনা সত্য!

অনেক বাচ্চারাই তাদের মায়েদেরকে যম মনে করে থাকে। কিন্তুআমরা নিশ্চয়তাসহকারে বলছি যে এ শাসন আপনার পরবর্তী জীবনেবেশ সাহায্য করবে আপনাকে। বয়স্ক হবার পর আপনি মা-কেবারবার ধন্যবাদ জানাবেন সুন্দর ও অভাবনীয় একটি জীবনের জন্যে।শুধু তাই নয়, সে শিক্ষায় আপনি আপনার সন্তানকেও শিক্ষিত করতেচাইবেন।

সন্তান যেমনই হোক, দুষ্টু কি শান্ত প্রত্যেক মা-বাবার কাছেই তার সন্তান অনেক প্রিয়। তাই সন্তানের অনেক বিষয়ই নজর এড়িয়ে যায় মা-বাবার। মা-বাবা হলেও তারা যে কখনো ভুল করেন না তা কিন্তু নয়। তাদেরও ভুল হয়।

বাবা-মা অনেক কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেন। তাই আমাদের উচিৎ কখনো বাবা-মা কে কষ্ট না দেয়া। বাবা-মায়ের সেবা করা। সবসময় মনে করুন, আপনার মা-বাবাই পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা মা-বাবা।

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৪-নভেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments

comments

You might also like More from author

Comments are closed.

মুক্তিযোদ্ধার কন্ঠ