দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকার পর পরিস্কার করা হলো বৃটিশ ভারতের কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের সমাধী স্থল

অর্জুন রায়,দিনাজপুর প্রতিনিধি।। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকার পর আজ ১৭ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৯ টার পরিস্কার করা হলো বৃটিশ ভারতের কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের সমাধী স্থল। দিনাজপুর আদর্শ কলেজের ছাত্র ও ৩৭ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা -২০১৬ তে দেশ সেরা প্রথম স্থান অর্জনকারী মো. মোসাদ্দেক হোসেনের আহব্বানে দিনাজপুরের কিছু উদিয়মান কিছু তরুনের অংশগ্রহে দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকার পর পরিষ্কার করা হলো বৃটিশ ভারতের কৃষক নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশের সমাধী স্থল।

মোহাম্মদ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বৃটিশ ভারতের একজন কৃষক নেতা ছিলেন যিনি ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দে পাকিস্থানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন। তাকে তেভাগা আন্দোলনের জনক বলেও খ্যাত করা হয়। তিনি পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা। তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। দিনাজপুরের বাঁশের হাটে প্রতিষ্ঠিত কৃষি কলেজ ১৯৯৯ সালে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নিত করা হয়।
তিনি ১৯০০ সালে ২৭ শে জুন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার সুলতানপুর বড় জোতদার পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন ঢাকার পিজি হাসপাতালে মৃত্যু বরন করন।  তাকে তার নিজের জেলা দিনাজপুরের বড়মাঠ মসজিদের পশ্চিম পার্শ দাফন করা হয়।
কিন্তু এতোবড় একজন বড় মহান নেতার সমাধী স্থল যে দিনাজপুরের বড়মাঠে তা দিনাজপুরের তরুন প্রজেন্মের অনেকেই যানে না। যানারো কোন উপায় নেই। কারন তার সমাদী স্থলের পার্শে তার বন্যাঢ্য জীবন নিয়ে নেই কোন ফলক ।
সমাধীর অবস্থা দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে একজন মহান নেতার সমাধী স্থল আগাছা, ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে সমাধী স্থলের চারপাশ ,মসজিদ রক্ষাকারী কাটাতারের বেড়া অযত্নের কারনে ভেঙ্গে পড়তে শুরু করেছে, সমাধীর পার্শে অবস্থিত মসজিদের ময়লা পানি এস জমা হচ্ছে মসজিদের বাইরে যা দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
সমাধীস্থল পরিষ্কারের উদ্যেগ গ্রহনকারী মো. মোসাদ্দেক হোসেন জানান, দীর্ঘদিন অবহেলা অযত্নে পড়ে আসে মহান নেতার সমাধীস্থল আমরা তা জানার পরেও সমাধীস্থল পরিক্ষারের কোন উদ্যেগ গ্রহন করিনি যা দিনাজপুর বাসীর জন্য লজ্জার বিষয়। আজ মহান এই নেতার সমাধী পরিক্ষার করা হচ্ছে বলে তিনি অনেক খুশি। ভবিষ্যতেও তিনি সমাধী স্থল পরীষ্কারের উদ্যেগ গ্রহন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সারেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুরের অনেক উদিয়মান তরুন সমাধী স্থল পরিক্ষারের কাজে অংশগ্রহন করেছে। সমাধী স্থল পরক্ষিারের কাজে অংশগ্রহন কারী দিনাজপুর কালেক্টোরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রাহিনূর ইসলাম সিদ্দিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকা মহান নেতার সমাধীস্থল পরিক্ষারের কাজে অংশগ্রহন করতে পেরে খুশি তিনি, তিনি আরো জানান, দিনাজপুরের জেলা প্রশাষক মীর খায়রুল আলমের সাথে তার কথা হয়েছে তিনি বলেন সমাধীস্থল উন্নয়নে সাহায্য করবে জেলা প্রশাষক স্যার, সমাধী স্থলের চারপাশে ইটের দেয়াল স্থাপন করা হবে হবে বলে জেলা প্রশাষক স্যার তাকে আশ্বাস দেন।

পরিক্ষার পরিচ্ছন্য কাজে অংশগ্রহনকারী একজন বলে আমরা মানি লোকের মান দিতে পারিনা বলে আমাদের এই অবস্থা। আমরা তাদের সন্মান প্রদর্শন করতে পারিনা এটা আমাদের ব্যার্থতা । সমাধী স্থলের চারাপশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে বিভিন্ন রকম নেশাজাত দ্রব্যাদির বোতল।

 

 

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠ ডটকম/১৭-নভেম্বর২০১৭ইং/নোমান

Comments are closed.